ত্রিদেশীয় সিরিজ ২০ বছর আগের শীতের কথাই মনে করাচ্ছে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:৪২ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮
ত্রিদেশীয় সিরিজ ২০ বছর আগের শীতের কথাই মনে করাচ্ছে

কেউ কেউ ২০ বছর আগের সাথে এবারের আবহাওয়া, মানে প্রচন্ড শীতের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তা পেতেই পারেন। ১৯৯৮ সালে রাজধানী ঢাকায় যখন ত্রিদেশীয় ক্রিকেট আসর বসেছিল, তখনো ছিল খুব বেশি শীত। বরং শীতের প্রচন্ডতা এবারের চেয়ে বেশিই ছিল সেবার।

সেটা ছিল প্রবল শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে। এবারের আবহাওয়ার সাথে ২০ বছর আগে হওয়া ইন্ডিপেন্ডেস কাপের পার্থক্য একটাই। সেবার ছিল প্রচন্ড কুয়াশা। ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৮ জানুয়ারি ফাইনালও হয়েছিল কুয়াশা ঢাকা আকাশে। তখন ছিল রমজান মাস। রোজার মধ্যেই খেলা হয়েছে। সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রীড়াকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। পুরো আসর জুড়ে আকাশে সূর্য্যরে দেখা মেলেনি বললেই চলে। চারপাশ ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। ঘড়ির কাঁটা সকাল ১১টা স্পর্শ করার পরও বোঝা যেতো না আদৌ সকাল হয়েছে কি না?

কুয়াশা ঢাকা আকাশে স্বভাবতই আলো ছিল কম। তাই আলোর ঘাটতি মেটাতে ম্যাচের একটা বড় অংশ হয়েছে ফ্লাডলাইটের আলোয়। কোনো কোনো দিন খেলা শুরুই হয়েছে ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে।
১৯৯৮ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচ শেষ হতে না হতেই সন্ধ্যা নেমেছিল। পাকিস্তানের ৩১২ রানের হিমালয় সমান রান টপকে ভারত যখন জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়, তখন বায়তুল মোকাররমে মাগরিবের আজান হচ্ছিলো।

শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি আর রবীন সিংয়ের অবিস্মরণীয় উইলোবাজিতে দারুণ এক জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ভারত। এটুকু শুনে আবার ভেবে বসবেন না, এখনকার মত বুঝি তখন ফ্লাইডলাইটের আলোয় দিবা-রাত্রির ম্যাচ হয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্টস কাপের খেলা দিনেই হয়েছে।

কারণ তখনকার ফ্লাডলাইট ক্রিকেট উপযোগী ছিল না। ফুটবলের হলুদাভ বাতির আলোয় দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন যথাযথ হয় না। ক্রিকেটর ফ্লাডলাইটের বাল্ব একদম ধবধবে সাদা আর দ্বিতীয়তঃ ক্রিকেটের ফ্লাডলাইটের টাওয়ার ও বাল্ব বসানোর ডিজাইন এবং কৌশলও ভিন্ন। কারণ, এখানে উইকেটের ওপর, তিরিশ গজের মধ্যে এবং সীমানার ধারে ভিন্ন ভিন্ন লাক্স (আলোর অনুপাত) থাকে।

ফুটবলের ফ্লাডলাইটে স্থান ভেদে আলোর পরিমাণের বেশি কম হওয়ার দরকার পড়ে না। তাই ক্রিকেট আর ফুটবলের ফ্লাডলাইটের আলোর রং, ধরন ও ফ্লাডলাইটের টাওয়ারের নির্মান শৈলি- সবই ভিন্ন। তখনকার ঢাকা স্টেডিয়াম, আজকের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ফুটবলের ফ্লাডলাইট জ্বেলেই ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ক্রিকেট উপযোগী ফ্লাডলাইট বসানো হয় ১৯৯৮ সালের মিনি বিশ্বকাপে। সেটা আবার ২০১১ সালে বিশ্বকাপের সময় আবার পূণঃস্থাপিত হয়। তবে এবার আর আলো কোন সমস্যা নয়। খেলা শুরু হবে বেলা ১২টায়। সুর্য্যরে দেখা না মিললেও সমস্যা নেই। ফ্লাডলাইট জ্বেলেই শুরু হবে ম্যাচ।

ইতিহাস জানাচ্ছে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে ইন্ডিপেন্ডন্টস কাপের সময় রাজধানীর তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর আবার ঢাকায় ত্রিদেশীয় ক্রিকেট। আগামী ১৫ জানুয়ারী পর্দা উঠবে এবারের ত্রিদেশীয় ক্রিকেট আসরের। কি কাকতালীয়; এবারেও প্রচন্ড শীত। আবহাওয়ার পূর্বাভাষ জানাচ্ছে তিন জাতি আসর শুরুর পর ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ কমতে থাকবে। এখন যেমন রাজধানীর তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে, সেটা ১৫-১৬, জানুয়ারীর শেষ দিকে বেড়ে ১৫-১৬ তে দাঁড়াবে।
তার মানে আসর শুরু হতে হতে হয়ত শীতের তীব্রতাও কমে আসবে।

এআরবি/আইএইচএস/জেআইএম