মাশরাফির আস্থা টিম কম্বিনেশনে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ২২ জুলাই ২০১৮

র‍্যাংকিং কিংবা সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পিছিয়ে ছিল টেস্ট ফরম্যাটেও। কিন্তু ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দেখলে বোঝার উপায় ছিল না গত চার বছর ধরে ঘরের মাঠে সিরিজ জয় থেকে বঞ্চিত ছিল তারা।

হতাশাজনক সেই টেস্ট সিরিজ শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল রোববার সন্ধ্যায় অভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামবে রঙিন পোশাক, সাদা বলের লড়াইয়ে। ওয়ানডে সিরিজের জন্য দেশ ছাড়ার আগেই বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন সাদা বলের খেলা ভিন্ন রকমের হয়। তাই সেখানে পৌঁছানোর আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।

মাশরাফি ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌঁছেছেন গত বৃহস্পতিবার। দুইদিন ধরে দেখলেন সেখানের কন্ডিশন ও বাংলাদেশ দলের অবস্থা। নিজের অনুধাবন ও পর্যবেক্ষণ শেষে অধিনায়ক কথা বলেছেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের সম্ভাবনা বা অবস্থার সম্পর্কে। সাদা বলের এই খেলা বাংলাদেশ দলের জন্য বেশ মানানসই বলে মন্তব্য করেন মাশরাফি। তার মতে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের টিম কম্বিনেশনটাই সাফল্যের মূলমন্ত্র।

ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে চারটি নতুন মুখ রেখেছে বাংলাদেশ। এছাড়াও মাশরাফির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেছেন টেস্ট সিরিজে না খেলা বেশ কয়েকজন। সবমিলিয়ে নিজেদের কম্বিনেশনটা ওয়ানডের জন্য যুতসই এবং নিজেদের শক্তিমত্তার উপর খেলতে পারলে ওয়ানডেতে ভালো করা সম্ভব বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে মাশরাফি বলেন, ‘হ্যাঁ! আমাদের দলে বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছে। আশা করছি ঘরের বাইরে তারা ভালো ক্রিকেট খেলবে। ওয়ানডে ক্রিকেট আমাদের জন্য বেশ মানানসই। যারা এখানে ছিল ও ওয়ানডের জন্য যারা এসেছে, সবমিলিয়ে আমাদের কম্বিনেশনটা বেশ ভালো। আশা করছি প্রথম ম্যাচ থেকেই সবাই সচেতন থাকবে এবং আগামীকাল আমরা ভালো কিছু করবো।’

তবে প্রতিপক্ষের ব্যাপারেও সজাগ বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজেদের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেকোন দলের জন্যই হুমকি, এমনটা জানেন মাশরাফিও। তাই তাদের বিপক্ষে নামার আগে নিজ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার জায়গায় বোলিং করতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

‘আমরা জানি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের মাঠে অনেক শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে খেলা খুব সহজ নয়। তবে আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। আমাদের সামর্থ্যের জায়গা আকড়ে ধরে রাখতে হবে। আমাদের ঠিক জায়গায় বল করতে হবে। তাদের দুর্বল জায়গায় বল ফেলতে হবে। আমরা তাদের তাদের যদি দ্রুত গুটিয়ে দিতে পারি বিশেষ করে তাদের টপ অর্ডার ধসিয়ে দিতে পারি তা দারুণ হবে।’

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের ভেন্যু গায়ানায় বাংলাদেশের দারুণ এক সুখস্মৃতি থাকলেও প্রায় এক যুগ এই ভেন্যুতে খেলেনি টাইগাররা। তবে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে তখনকার এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ঘটনার পেরিয়েছে ১১ বছর। এই ১১ বছরে গায়ানার উইকেট বা কন্ডিশনের কতোটা পরিবর্তন এসেছে তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই মাশরাফির। তবে উইকেট দেখে বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করছেন ২৬০ থেকে ২৮০ রান হলেই ভালো একটি স্কোর হবে।

মাশরাফি বলেন, ‘এখানে আমরা সবশেষ ২০০৭ সালে খেলেছি। জানিনা এখানে এখন খেলা কেমন হবে। দীর্ঘদিন পর কোথাও খেলাটা সহজ নয়। আমার মনে হয় ২৬০ থেকে ২৮০ এখানে ভালো স্কোর হবে।’

এসএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :