অবশেষে টনটনে রোদেলা সকাল, ম্যাচের দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা টনটন থেকে
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯

অবশেষে রোদেলা সকাল টনটনে। প্রায় ১০/১২ দিন লন্ডন, কার্ডিফ, ব্রিস্টল আর টনটনে সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, টিপটিপ বৃষ্টি আর কনকনে বাতাস-এবার যুক্তরাজ্যে টাইগারদের সঙ্গী হয়ে আছে। অবশেষে আজ (রোববার) এক রোদেলা সকালের দেখা মিললো। ঘুম থেকে উঠে আকাশের গোমড়া কালো মুখ দেখতে হয়নি।

তারপরও এই নীল আকাশ থাকবে কিনা, তা নিয়ে আছে সংশয়। কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় সময় ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে সেটা শতকরা হিসেবে কম, ৩০ %। তারপর খানিক বিরতি দিয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই আবার হানা দিতে পারে বৃষ্টি।

আর যদি সেটা দেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে টিম বাংলাদেশের অনুশীলন। কারণ আজ সিডিউলে মাশরাফি বাহিনীর অনুশীলন দুপুর ২টায়। আর তার আগে দুপুর পৌনে ২টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) বাংলাদেশের প্রেস কনফারেন্স।

যাই হোক, আসল কথা হলো, আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সারা দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তার চেয়েও বড় খবর, কাল ১৭ জুন সোমবার বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচের দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশ কম।

একদমই নেই, তা বলা যাবে না। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সেভাবে ভারি ও সারা দিন অবিরাম বৃষ্টির কথা বলা নেই। আবহাওয়া রিপোর্টে মোটা দাগে বলা নেই- বৃষ্টি হবেই। শতকরা হিসেবে ২০ % বৃষ্টির কথা বলা আছে। তবে দিনের তাপমাত্রা আগের দিনগুলোর তুলনায় বেড়ে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবার কথা বলা আছে।

tonton

যদিও সকাল নয়টার আগে এক পশলা বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও আছে। তবে সেটা হলেও হয়তো ম্যাচের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। খেলা নির্বিঘ্নেই শেষ হবে।

এদিকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই বৃষ্টি ভোগাচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই বৃষ্টি। রাতে ঘুমাতে যাবার আগেও ঝিরঝিরে, টিপ টিপ আর ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টির দেখা মিলছে। আজকের সকাল তাই বেশ দিন পরের ব্যতিক্রম।

৫ জুন নিউজিল্যান্ডের সাথে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন থেকেই বৃষ্টি বাগড়া দিচ্ছে। ৪ জুন লন্ডনে ঈদের দিনটিও ছিল বৃষ্টি ভেজা। তারপর ৫ জুন ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটি ভালোয় ভালোয় শেষ হলেও ওয়েলসের কার্ডিফে গিয়েও বৃষ্টির খপ্পরে পড়তে হয় টিম বাংলাদেশকে। আর ব্রিস্টলে ৯ থেকে ১১ জুন ছিল বৃষ্টি ভেজা দিন।

তারপরও একটি কথা বলে রাখা ভাল, ওপরে যা বলা হলো, সেটাই শেষ কথা নয়। কোন বৃটিশ, ইংলিশ বা যুক্তরাজ্যবাসীও তা মনে করেন না। এদেশে আবহাওয়া সব সময়ই রহস্যময়! যার নিশ্চয়তা নেই। এই রোদ। এই বৃষ্টি। কাল শনিবার সমারসেট কাউন্টি ক্লাব মাঠে বাংলাদেশের প্র্যাকটিসের সময় বৃষ্টি বার বার হানা দিয়েছে। তবে বেশি থাকেনি, এই যা।

এখন ভালোয় ভালোয় আজ ও কাল- এই দুই দিন কেটে গেলেই হয়। কারণ বিশ্বকাপ স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে কালকের ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ মাশরাফি, তামিম, সাকি, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহদের জন্য।

কঠিনতম সত্য হলো, সেমিতে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে কালকের ম্যাচে জয় ছাড়া পথ নেই বাংলাদেশের। ক্যারিবীয়দের হারাতে সেমিতে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে থাকবে। তবে সেটাই শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। তারপরও অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, ভারত আর পাকিস্তানের সাথে খেলা বাকি থাকবে। তার অন্তত তিন ম্যাচ জেতা জরুরী হবে।

অবশ্য এর কোন সমীকরণই চূড়ান্ত নয়। আর বাংলাদেশ কালকেরটিসহ বাকি পাঁচ খেলার তিনটিতে জিতেও সেরা চারে নাম লেখাতে পারে, সেটা নির্ভর করবে বাকি দলগুলোর কার কি অবস্থান, সেটার উপর।

বাকি দলগুলো খুব নিরাপদে থাকলে মানে বেশি ম্যাচ জিতে গেলে কাল জিতে পরের চার ম্যাচে দুই জয়ও হয়ত যথেষ্ট হবে না। আসলে অপেক্ষার পালা আরও দীর্ঘ হবে। এমনও হতে পারে পাকিস্তানের সাথে শেষ ম্যাচটিও বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই হতে পারে। তবে তার আগে কাল গেইল, আন্দ্রে রাসেলদের হারাতে হবে। কাল জিততে না পারলে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা একদম নিঃশেষ না হলেও কমে যাবে অনেকটাই।

এআরবি/এমএমআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :