এমন সহায়ক কন্ডিশনেও এবাদত-খালেদ নির্বিষ কেন?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

চট্টগ্রাম টেস্টে পাকিস্তানের ১২ উইকেটের ১০টি জমা পড়েছে দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম (৮) ও মেহেদি হাসান মিরাজের (২) ঝুলিতে। দলের দুই পেসার এবাদত হোসেন ও আবু জায়েদ রাহির মধ্যে একমাত্র এবাদত ২ উইকেট পেয়েছিলেন, রাহি ছিলেন উইকেটশূন্য।

ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এখন পর্যন্ত যে ৬৩.২ ওভার খেলা হয়েছে, সেখানেও দুই পেসার এবাদত ও সৈয়দ খালেদ আহমেদের কোন সাফল্য নেই। উইকেট না পেলেও শনিবার প্রথম দিন সকালে প্রথম স্পেলে ভালো বোলিং করেছেন এবাদত। ব্যাটারদের কাছ থেকে সমীহও আদায় করে নিয়েছেন।

কিন্তু অপর পেসার খালেদের বল এতটুকু প্রভাব ফেলতে পারেনি পাকিস্তানিদের ওপর। সে তুলনায় তিন স্পিনার তাইজুল (ওভার পিছু ২.৮৮), সাকিব আল হাসান (ওভার পিছু ২.২) ও মিরাজ (ওভার পিছু ২.৫৮) রান গতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। তাদের বোলিংয়ের বিপক্ষে তেমন স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেনি পাকিস্তানিরা।

বৃষ্টিভেজা ও মেঘলা কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনাররা কেমন বোলিং করেছেন? তা শুধু বাঁহাতি তাইজুলের ২ উইকেট পাওয়া দিয়ে মূল্যায়ন না করে আসুন একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান দিয়ে দেখি।

ম্যাচে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের দুই পেসার খালেদ (৭-১-২৬-০) ও এবাদত (১২-১-৪৮-০) ১৯.২ ওভারে দিয়েছেন ৭৪ রান। আর তিন স্পিনার তাইজুল (১৭-৫-৪৯-২), সাকিব (১৫-৬-৩৩-০) ও মিরাজ (১২-২-৩১-০) মিলে ৪৪ ওভারে মেডেনই নিয়েছেন ১৩ টি। তাদের ওভারে রান উঠেছে পেসারদের চেয়ে অন্তত ৩০ ভাগেরও কম; ১১৩।

স্বাগতিক পেসারদের বোলিং দুর্বলতা ও দৈন্য বেশি করে ফুটে উঠেছে আজকের (রোববার) বৃষ্টিভেজা উইকেটে। ভাবছেন আজতো খেলাই হয়েছে মোটে ৬.২ ওভার। সেখানে পেসারদের কিই বা করার ছিল? হ্যাঁ ছিল! যত অল্প সময়ের জন্যই হোক না কেন, আজ এবাদত-খালেদের সামনে ছিল ভালো করার সুযোগ।

একদম আদর্শ সিমিং কন্ডিশন ছিল রোববার। আকাশ মেঘে ঢাকা। পিচও প্রথম দিন দুপুরের পর থেকে আজ বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে খেলা শুরুর আগে ৮০ ভাগ সময় কভারে ঢাকা থাকায় ময়েশ্চার জন্মেছে। এমন পিচে এক-আধটু বাড়তি মুভমেন্ট বা সুইং আদায় করে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এবাদত-খালেদ কিছুই করতে পারেননি। দুজনই ভুল লাইন-লেন্থে বল করেছেন। দিনের প্রথম বলে দুই স্লিপ ও এক গালি নিয়ে খালেদ প্রথম বল করলেন লেগস্টাম্পের বাইরে এবং বাউন্ডারিও হজম করলেন। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে এবাদতও দিনের চতুর্থ ওভারে দুই চারসহ ১১ রান দিয়ে ফেললেন।

বৃষ্টিভেজা আবহাওয়া মানেই পেস বোলিং সহায়ক পরিবেশ- খুব স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক মুমিনুল খুব বড় আশা করে পেসারদের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। এক রাশ হতাশা তাকে নিশ্চয়ই আচ্ছন্ন করেছে। এবাদত-খালেদের এই নির্জীব ও নির্বিষ বোলিং দেখে চরম হতাশ ভক্তরা।

দলের ফিল্ডিং কোচ মিজানুর রহমান বাবুলও মানছেন আজকের পেস বোলিংটা ভালো হয়নি। তার কথা, ‘আমি বলবো যে ভালো বোলিং করা হয়নি। দুজন পেসার খেলিয়েছি, আবহাওয়াও আমাদের অনুকূলে ছিল। কিন্তু ঐ অনুযায়ী আমরা পারফর্ম করিনি, এটাই বাস্তবতা।’

কী কারণে পেসাররা অকার্যকর? বাবুলের ব্যাখ্যা, ‘যদি পাকিস্তানের পেসারদের সঙ্গে তুলনা করি, বলতে পারি ওদের পেসাররাই আমাদের ওপরে ডমিনেট করেছে। শুরুর দিকে উইকেট নিচ্ছে। আমাদের পেসাররা হয়তো উইকেট নিতে চাচ্ছে বেশি। আর উইকেটের চিন্তায় বল করার কারণে হয়তো তারা সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারছে না।’

এআরবি/এসএএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]