শেষ ওভারে টানা চার আউট, নাটকীয় জয় গুজরাটের

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২৩

শেষ ওভারের প্রয়োজন ১২ রান উইকেটে সেট হওয়া ব্যাটার লোকেশ রাহুল এবং আয়ুশ বাধোনি। বলার মহিত শর্মা। প্রথম বলেই দুই রান নিলেন রাহুল। পরের বলেই সলওয়ার শর্ট বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি ধরা পড়েন জয়ন্ত যাদবের হাতে। ৬১ বলে ৬৮ রান করে আউট হন লখনৌ অধিনায়ক।

পরের বলেই আউট হয়ে গেলেন মার্কাস স্টয়নিজ। কোন রান করতে পারেননি তিনি। পরের দুই বলে টানা দুটি রান আউট হলেন আয়ুস বাধোনি এবং দিপক হুদা। শেষ বলে রান‌ই নিতে পারেনি লখনৌ সুপার জায়ান্ট। ফলে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় মাত্র সাত রানে গুজরাট টাইটান্সের কাছে হেরে গেল লখনৌ সুপার জায়ান্ট।

অথচ ম্যাচটি ছিল লো স্কোরিং। প্রথমে ব্যাট করে গুজরাট টাইটান্স রান তুলেছিল মাত্র ১৩৫। হার্দিক পান্ডিয়ার ঝড় সত্বেও খুবই কম রানে আটকে যায় গুজরাট। পান্ডিয়া করেন ৬৬ রান। জবাব দিতে নেমে ১২৮ রানে থেমে যেতে হয় লখনৌকে। যদিও তাদের সামনে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল।

নিজেদের ডেরায় ডেকে এনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটানসকে বিধ্বস্ত করার সুযোগ ছিল লখনৌ সুপার জায়ান্টসের সামনে। লোকেশ রাহুলরা হাসতে হাসতে জয় তুলে নিতে পারতেন হার্দিক পান্ডিয়াদের বিরুদ্ধে। যদিও ঘরের মাঠে খারাপ ব্যাটিংয়ের মাশুল দিয়ে জেতা ম্যাচ হারতে হলো লখনৌকে। ক্যাপ্টেন রাহুল ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বল নষ্ট করে দলকে হারান।

লখনৌয়ে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় গুজরাট। চলতি আইপিএলে টস জিতে রান তাড়া করতে দেখা যাচ্ছে সব দলকেই। হার্দিক এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী হওয়ার চেষ্টা করেন। তার ডাকাবুকো সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে ভুল মনে হলেও শেষমেশ সাফল্য এনে দেয় টাইটান্স শিবিরকে।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট একেবারে শুরুতেই শুভমান গিলের উইকেট হারিয়ে বসে। ২ বল খেলে খাতা খোলার আগেই ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে রবি বিষনোইয়ের হাতে ধরা পড়েন শুভমান। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে গুজরাটকে শক্ত ভিতে বসিয়ে দেন ঋদ্ধিমান সাহা। যদিও রান তোলার গতি বাড়াতে না পারায় শেষমেশ বড়সড় ইনিংস গড়া হয়নি টাইটানসের।

ঋদ্ধিমান নিশ্চিত হাফ-সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। তিনি ৬টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৭ বলে ৪৭ রান করে পান্ডিয়ার বলেই দিপক হুদার হাতে ধরা পড়েন। ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অধিনায়ক হার্দিক। তিনি ২টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ৫০ বলে ৬৬ রান করে স্টয়নিজের বলে লোকেশ রাহুলের হাতে ধরা পড়েন।

বাকিরা কেউই বলার মতো রান করতে পারেননি। অভিনব মনোহর ৩, বিজয় শঙ্কর ১০, ডেভিড মিলার ৬ ও রাহুল তেওয়াটিয়া অপরাজিত ২ রান করেন। গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৫ রান তোলে। ক্রুুণাল পান্ডিয়া ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করে ২টি উইকেট তুলে নেন। ৩ ওভারে ২০ রান খরচ করে ২টি উইকেট নেন মার্কাস স্টইনিস। এছাড়া ১টি করে উইকেট দখল করেন নবীন উল হক ও অমিত মিশ্র।
পালটা ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস ২০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১২৭ রানে আটকে যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১২ রান দরকার ছিল সুপার জায়ান্টসের। মোহিত শর্মার শেষ ওভারে ৪ রান ওঠে এবং ৪টি উইকেট পড়ে, যার মধ্যে ২টি ছিল রান-আউট। গুজরাট জায়ান্টস শেষমেশ ৭ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে।

লোকেশ রাহুল ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬১ বলে ৬৮ রানের ধীর ইনিংস খেলেন। ডেথ ওভারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বল নষ্ট করেন লোকেশ। কাইল মায়ের্স করেন ১৯ বলে ২৪ রান। তিনি ২টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন। ক্রুণাল পান্ডিয়া ২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ২৩ বলে ২৩ রানের যোগদান রাখেন। বাকিরা ব্যাট হাতে ডাহা ফেল।

মোহিত শর্মা ৩ ওভারে ১৭ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরার পুরস্কার জেতেন। ৪ ওভারে ১৮ রান খরচ করে ২টি উইকেট দখল করেন নূর আহমেদ। ৩৩ রান খরচ করে ১টি উইকেট নেন রশিদ খান।

আইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।