তবে কি ইতালির সাফল্যের সূর্য অস্ত গেল?
যেহেতু এবার নিয়ে টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপের বাইরে, তাই কেউ কেউ এটাকে খুব বড় খবর মানতে নারাজ। তাদের কথা, যত সোনালি ইতিহাস থাকুক না কেন, এক সময়ের যেমন ‘সুপার পাওয়ারই’ হোক না কেন, যে দল একনাগাড়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলতে পারে না, তাদের বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই করতে না পারা নিয়ে কেন এত হইচই?
বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মনেই কিন্তু এমন ধারণা আছে। সেটা অযৌক্তিক বলা যাবে না। বরং যুক্তিযুক্ত মানাই হবে সঠিক।
তবে যারা সেই ৭০ দশকের একদম শেষ থেকে আশির দশকের শুরু হয়ে ৯০ দশকের পর বর্তমান শতাব্দীর প্রথমভাগের বিশ্ব ফুটবলকে পাখির চোখে দেখেছেন, তাদের কাছে ইতালির বিশ্বকাপে না থাকা কিন্তু মোটেই সাধারণ ঘটনা নয়। অনেক বড় ঘটনা।
ইতালির মতো দেশের বিশ্বকাপে না থাকাই অনেক বড় খবর এবং ফুটবলের জন্য, ফুটবলভক্তদের জন্য রীতিমতো হতাশাজনক খবর। সেটা এবার নিয়ে টানা তৃতীয়বার হোক, কিংবা প্রথমবার।
যারা সেই ৭০ ও ৮০ দশক থেকে ফুটবল দেখেন (তখন তো আর এখনকার মতো এত স্পোর্টস চ্যানেল বা স্যাটেলাইট চ্যানেল ছিল না, বাংলাদেশ টেলিভিশন মাঝেমধ্যে ওয়ার্ল্ড সকার দেখাতো। ইংলিশ লিগটাই বেশি দেখা যেত), তাদের কাছে ইতালি এক অন্যরকম দল। এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে পিছনে তাকাতে হবে।
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ব্রাজিলের পর সবচেয়ে বেশিবার ফুটবলে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুর্দান্ত কৃতিত্ব আছে শুধু ২ দলের; ইতালি আর জার্মানির। ইউরোপের পাশাপাশি দুই দেশ ইতালি ও জার্মানি সমান চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। ফুটবলের কালজয়ী মহাতারকা দিয়েগো ম্যারাডোনা আর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, জিনেদিন জিদান আর এমবাপের ফ্রান্সের যে সাফল্য নেই।
আর্জেন্টিনার তিনবার আর ফ্রান্সের আছে দুবার করে বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড। প্রথমবারসহ দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন কিন্তু উরুগুয়েও। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও স্পেনের আছে একবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড। তার মানে পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইতালি সফল দলগুলোর মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয়।
এক সময় বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল আর মহাদেশীয় পর্যায়ে ইউরোপীয় ফুটবলে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ডের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে ইতালি কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগীর মন জয় করে নিয়েছিল, যাদের ‘সেমি-ডিফেন্সিভ’ ও অতি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবলও অনেকের খুব ভালো লাগতো।

আরও একটি কারণে ইতালির সমর্থন বেশি। বিশেষ করে নারী ভক্ত অনেক বেশি ছিল ইতালির। কারণ প্রতিবার ইতালিয়ান স্কোয়াডে দেখা মিলেছে অন্তত দুই থেকে তিনজন অতি সুদর্শন ফুটবলারের, যাদের মুখাবয়ব ও শরীরী সৌন্দর্য ছিল অতুলনীয়। ৮০’র দশকের গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গা, পাওলো মালদিনি, রবার্তো ব্যাজিও, ফ্রান্সেসকো টট্টি আর দেল পিয়েরোর মতো সুদর্শন ফুটবলার বিশ্ব ফুটবলেই কম দেখা গেছে।
কিন্তু হায়, সেই ইতালি এবারও ভক্তদের হতাশায় ডুবিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ। তবে এবার নিয়ে একযুগ বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে না থাকায় ইতালিকে নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের সে অর্থে উৎসাহ কম। বরং এখনকার ফুটবল অনুরাগীদের কাছে ইতালির বিশ্বকাপে না থাকাটা খানিকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে।
এখন যাদের বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে, তারা তো ওয়ার্ল্ড সকার ফলো করতে শুরু করেই দেখছে ইতালি বিশ্বকাপ মূল পর্বেই আসতে পারে না- বাছাইয়ের প্রাচীর টপকাতে না পারা এক দেশ।
তবে আমার মতো যারা তিনযুগ পেরিয়ে প্রায় চারযুগ ধরে বিশ্বকাপ দেখেন, তাদের কাছে দিনো জফ, পাওলো রোসি, এসশিলাচি, ওয়াল্টার জেঙ্গা, ফ্র্যাঙ্কো বারেসি, পাওলো মালদিনি, রবার্তো ব্যাজিওসহ কয়েক ডজন বিশ্বমানের ফুটবলারের দেশ ইতালির বিশ্বকাপে না থাকাটা অনেক বেশি হতাশার।
এখনকার প্রজন্ম শুনে ও জেনে অবাক হবেন, হয়তো মানতেই চাইবেন না, কিন্তু নির্জলা সত্য হলো- দিয়েগো ম্যারাডোনার আবির্ভাব ও ফুটবলের রাজা হয়ে ওঠার আগে পর্যন্ত টিম আর্জেন্টিনার চেয়ে ইতালি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় ফুটবল অনুরাগীদের কাছে বেশি জনপ্রিয় দল ছিল। এর একটা যৌক্তিক কারণও আছে।
কি সেই কারণ? ফুটবলের খুঁটিনাটি খোঁজখবর যাদের নখদর্পণে, তারা হয়তো বলবেন আর্জেন্টিনার কথা শুধু আসছে কেন, তবে কি জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের চেয়েও ইতালির জনপ্রিয়তা বেশি ছিল বাংলাদেশে?
তাহলে কি ৭৪’র জার্মানি, নেদারল্যান্ডস আর ৭৮-এর বিশ্বকাপ বিজয়ী আর্জেন্টিনার চেয়েও ইতালির সাপোর্টার বেশি ছিল? রানার্সআপ হলেও ৭৪ সালে আধুনিক ফুটবল খেলে সারা বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীর মন জয় করা জোহান ক্রুইফের হল্যান্ড, ৭৪’র বিশ্ব বিজয়ী ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলারের জার্মানি আর ড্যানিয়েল প্যাসারেলা ও মারিও কেম্পেসের হাত ধরে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনার চেয়েও কি তাহলে ৮০’র দশকের শুরুতে ইতালির ‘ক্রেজ’ বেশি ছিল? এমন প্রশ্ন কেউ করতেই পারেন।
কিন্তু সে প্রশ্নেরও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ আছে। সেটা হলো, ১৯৭৪ আর ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল বাংলাদেশের দর্শকরা টিভিতে সরাসরি দেখতে পারেননি। ওই দুই বিশ্বকাপ ম্যাচ বাংলাদেশের টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি। এর মধ্যে ৭৪ সালে হওয়া বিশ্বকাপের দুটি সেমিফাইনাল আর জার্মানি-হল্যান্ড ফাইনাল ম্যাচটি রেকর্ডকৃত অংশ দেখানো হয় পরে। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপও বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি; কিছু ম্যাচ পরে দেখানো হয়েছে।

ইতিহাস জানাচ্ছে, বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগী তথা টিভি দর্শকরা প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার সুযোগ পান ১৯৮২ সালে স্পেনে হওয়া বিশ্বকাপে, যার নাম ছিল ‘ইস্পানা-৮২’। তার আগে ৭৮-এ কিছু ম্যাচ রেকর্ড করে দেখানো হয়েছে, ৭৪-এর সেমিফাইনাল-ফাইনাল পরে দেখানো হয়েছে; কিন্তু সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল বাংলাদেশের মানুষ গ্রাম-গঞ্জে, শহর-বন্দরে, আনাচে-কানাচে সবাই সরাসরি দেখেছেন ১৯৮২ সালে।
আর বাংলাদেশের দর্শকরা ঘরে বসে টিভিতে যে বিশ্বকাপ দেখেন, সেই চোখে দেখা বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলের নাম ইতালি। সেই বিশ্বকাপের চমক জাগানো দলের নামও ইতালি এবং ৮২’র বিশ্বকাপের সবচেয়ে সাড়া জাগানো দলটির নামও ইতালি।
সেবার বিশ্বকাপের টপ ফেবারিট ছিল ব্রাজিল। লিওনার্দো, জুনিয়রের মতো তখনকার সময়ের দুই সেরা ডিফেন্ডার, যারা ওভারল্যাপ করে ওপরে উঠে আক্রমণ শানাতেও ছিলেন অতি দক্ষ; তাদের সঙ্গে তিন তুখোড় বল প্লেয়ার ও প্লে-মেকার ফ্যালকাও, সক্রেটিস আর জিকো এবং লেফট উইংয়ে এডারের মতো দ্রুতগতির ক্রিয়েটিভ উইঙ্গার- এমন দল ছিল ব্রাজিল। সেই ব্রাজিলের সামনে ইতালি সে অর্থে তেমন বড় দলের তকমা নিয়ে ছিল না।
ইতালির সেই দলেও যে কোনো নামী তারকা ছিলেন না তা নয়। গোলকিপার দিনো জফ ছিলেন ৮০’র দশকের বিশ্বসেরা। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি তখন বিশ্ব ফুটবলে উদীয়মান তারকা। তার রক্ষণ দৃঢ়তা তখনই অনেকের নজর কাড়ে। তিনি পরবর্তীতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়া আরেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও কাবরিনি ছিলেন ইতালির সেই দলের অন্যতম নির্ভরতা। কিন্তু ব্রাজিলের সক্রেটিস, ফ্যালকাও ও জিকোর মানের কোনো প্লে-মেকার বা এডারের মতো ক্ষিপ্র গতির উইঙ্গার ছিল না ইতালিতে।
তাই ওই আসরের দ্বিতীয় পর্বের সেমিফাইনাল নির্ধারণী ম্যাচে ইতালির চেয়ে সবাই ব্রাজিলকেই এগিয়ে রেখেছিলেন। সেই নিচ থেকে দুই উইং-ব্যাকের মাধ্যমে ছোট ছোট পাসে হলুদ জার্সির ছন্দময় ও ধ্রুপদী ফুটবলের সঙ্গে নীল জার্সির ইতালি পেরে উঠবে- এমন প্রত্যাশা ছিল না অনেকেরই। কিন্তু মাঠে সব হিসাব বদলে দেন একজন- তিনি পাওলো রোসি।
যে ম্যাচে ব্রাজিল ড্র করলেই সেমিতে চলে যেত, আর ইতালির সামনে জেতা ছাড়া পথ ছিল না- জিততেই হবে, এমন সমীকরণের ম্যাচে হঠাৎ সবাইকে চমকে দেন ইতালির সোনার ছেলে পাওলো রোসি।
দুই দলের সব তারকা ও নামী-দামি ফুটবলারকে পিছনে ফেলে নৈপুণ্যের দ্যুতিতে সবাইকে ম্লান করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক হন ইতালির তুখোড় স্ট্রাইকার পাওলো রোসি। তার হ্যাটট্রিকেই পুরে ছারখার হয় ব্রাজিলিয়ানরা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, জমজমাট, আকর্ষণীয় ও উত্তেজনায় ঠাসা সেই ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইতালি চলে যায় সেমিফাইনালে। ফেবারিটের তকমা নিয়ে খেলতে নেমে কি দারুণ শুরুই না করেছিল ব্রাজিল! প্রথম গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে, দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়ে ইতালির কাছে এক হারে শেষ চারে যেতে পারেনি তারা। আর প্রথম পর্বে পোল্যান্ড, ক্যামেরুন আর পেরুর মতো দলের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ না জিতে সবগুলো ড্র করে দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে ব্রাজিলের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ চারে চলে যায় পাওলো রোসির ইতালি।

তারপর সেমিতে পোল্যান্ডকে ২-০ এবং ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের পর তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ইতালি।
সেই থেকে বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের মনে ইতালিয়ান ফুটবলাররা দাগ কাটেন। ২০১৮’র বিশ্বকাপের আগে এমন আসর খুব কমই ছিল, যাতে ইতালি সম্ভাব্য ফেবারিটের তালিকায় ছিল না। প্রতি আসরেই ইতালির অন্তত দুজন বিশ্বমানের ফুটবলার ছিলেন, যাদের দিকে চোখ থাকত সবার। এরপর ৮০ ও ৯০ দশকে ইতালিয়ান ক্লাব লিগও ছিল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ও সেরা লিগ।
ফুটবলের পরাশক্তি ইতালিয়ান লিগ খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এসি মিলান, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, নাপোলির নাম বিশ্বজোড়া সব ফুটবলপ্রেমীদের জানা। ম্যারাডোনা এই নাপোলিতে খেলেই হিরো হয়েছেন। এরপর আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বেশিরভাগ বড় তারকার পদধ্বনিতে মুখর ছিল ইতালিয়ান লিগ।
ঘরোয়া ফুটবল জমজমাট, আকর্ষণীয় ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল; পাশাপাশি বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ বেশি থাকায় ইতালিয়ানরা পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের ‘সুপার পাওয়ার’ হয়ে ওঠে।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে তৃতীয় এবং ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয় ইতালি। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে শেষ আট পর্যন্ত পৌঁছালেও চার বছর পর ২০০২ সালে সেরা ১৬ দলের মধ্যে ১৫ নম্বরে থাকে ইতালি।
অবশেষে ২০০৬ সালে আবার চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আবার বিশ্বসেরা হওয়ার আগে সেমিতে জার্মানিকে পরাজিত করে ইতালি। কিন্তু পরের আসর, অর্থাৎ ২০১০ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বিদায় ঘটে। সেখান থেকেই ছন্দ হারানো, ছন্নছাড়া হয়ে পড়া। এরপর ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬- তিন আসরেই মূল পর্বের আগেই বাদ।
অনেকের মতে, ঘরোয়া ফুটবল লিগের আকর্ষণ ও মান কমে যাওয়ার কারণেই ইতালি এখন আর বিশ্বমানের ফুটবলার পাচ্ছে না। ফুটবল যতই আধুনিক ও দলগত খেলা হোক এবং যতই আধুনিক ছক ও কৌশল প্রয়োগ করা হোক না কেন, ফুটবলের কিছু সূক্ষ্ম জায়গায় এখনো ব্যক্তিগত মেধার প্রয়োজন।
তাই তো যুগে যুগে পেলে এসেছেন, ম্যারাডোনা একা আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে এসেও বিশ্বকাপ জেতাতে না পেরে জিকো ব্রাজিলের ট্র্যাজেডি কিং হয়ে আছেন। সক্রেটিসও, নেইমারও তাই।
কিন্তু পাওলো রোসি, এসশিলাচি ও রবার্তো ব্যাজিওর হাত ধরে ইতালি সাফল্য পেয়েছে। তবে দিনো জফ, ওয়াল্টার জেঙ্গা, জিয়ানলুইজি বুফন, ফ্রাঙ্কো বারেসি, পাওলো মালদিনি, ফ্রান্সেসকো টট্টি, আন্দ্রে পিরলো, আলেসান্দ্রো নেস্তা, ফাবিও ক্যানাভারো, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, রবার্তো ব্যাজিওর মতো মেধাবী, দক্ষ ও কার্যকর ফুটবলার আর সেভাবে উঠে আসছে না। তাই বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ইতালির অবস্থান এখন নড়বড়ে। তাই তো ৪৮ দলের মধ্যেও ইতালির জায়গা হয়নি।
বসনিয়া হার্জেগোভিনার মত দলের বিপক্ষে ১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও জিততে না পারা, টাইব্রেকারে তিন শটের দুটি মিস করে ৪-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে, কোথায়ও ইতালির সেই বিখ্যাত ‘কাতানেচ্চিও’ ডিফেন্স? যে ডিফেন্স ভাঙা এক সময় ছিল সারা বিশ্বের অন্যসব ফুটবল দলের জন্য একটি স্বপ্ন।
বাকি খেলোয়াড়রা গড়পড়তার চেয়ে ভালো হলেও দলে অন্তত দুই-তিনজন খুব আউটস্ট্যান্ডিং খেলোয়াড়ের প্রয়োজন। সে কোয়ালিটির খেলোয়াড়ের সরবরাহ কমে গেছে ইতালিতে।
ব্যাপারটা ট্র্যাজিক, দুঃখের। আর আমাদের মতো যারা ৭০-এর দশকের শেষ থেকে বিশ্বকাপ দেখেন, ওয়ার্ল্ড সকার ফলো করেন, তাদের জন্য ইতালির এই পতন সত্যিই হতাশার। বাংলাদেশের এক সময়ের অন্যতম জনসমর্থনপুষ্ট দল ইতালির পতাকা বিশ্বকাপে উড়বে না- এবারও! এটা ভাবতেও মনটা ব্যথায় ভরে যায়। হিসাব মেলাতে কষ্ট হয়- কি দেখেছি, আর কি দেখছি! সেই ইতালি আর এই ইতালি- মেলানো যে অনেক কঠিন।
কে জানে, কবে আবার জাগবে ইতালিয়ান ফুটবল! আবার কবে কোনো রাজকুমার এসে ইতালিকে টেনে তুলবেন- কে জানে?
এআরবি/আইএইচএস