প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

পারমাণবিক সুরক্ষা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ১৩ মে ২০২৬
এমআইএসটিতে পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ে বিশেষ বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, ছবি: আইএসপিআর

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

বুধবার (১৩ মে) মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) আয়োজিত পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ক এক বিশেষ বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমআইএসটির নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি: ন্যাশনাল রেসপনসিবিলিটি আন্ডার ইন্টারন্যাশনাল কমিটমেন্ট অ্যান্ড ইটস ইমপ্লিকেশনস অন ন্যাশনাল সিকিউরিটি’ শীর্ষক বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেন।

বক্তৃতায় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পারমাণবিক সুরক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত মাত্রা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ে উদ্বেগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে বাংলাদেশের দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে দেশের অটল প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা, এবং দেশে পারমাণবিক সুরক্ষার বিদ্যমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

পারমাণবিক সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক স্থাপনা, উপাদান, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সুরক্ষা কেবল কোন একক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা এখন পারমাণবিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

বাংলাদেশের অঙ্গীকার সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, নিরাপত্তা সংস্কৃতি, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত নীতিমালা, প্রশিক্ষিত জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার সুরক্ষায় পেশাদারিত্ব, সতর্কতা, প্রযুক্তিগত সচেতনতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতীয় দায়িত্ববোধ, উচ্চমানের প্রস্তুতি এবং আন্তঃসংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশে পারমাণবিক সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, পারমাণবিক সুরক্ষা এখন বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বাস্তবায়নের অংশ। ভৌত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ হুমকি প্রতিরোধ, জরুরি সাড়া প্রদান, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, জনসচেতনতা এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি এই বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তৃতা শেষে তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পারমাণবিক সুরক্ষার প্রায়োগিক, নীতিগত ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে তার ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও এমআইএসটিতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানসমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এমআইএসটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিক্স, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ঘুরে দেখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গবেষণামুখী কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

পরিশেষে তিনি এমআইএসটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

টিটি/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।