জয়ের ভিত গড়ে দেন যমজ বোন আনাই-আনুচিং

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:২৪ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৮

আনাই মগিনি আর আনুচিং মগিনির বয়সের পার্থক্য দুই মিনিট। পাহাড়ি এ দুই যমজ বোন একই সঙ্গে ফুটবল খেলেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে। বৃহস্পতিবার থিম্পুতে ভুটানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ৫ গোলের জয়ের প্রথম দুটি করেন দুই সহদোরা। ২ মিনিটের ব্যবধানে পৃথিবীতে আসা যমজ বোনদের গোলের সময়ের ব্যবধান ২০ মিনিট। ১৮ মিনিটে আনাইয়ের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ, ৩৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আনুচিং।

জন্মের পর থেকে এক সঙ্গে বেড়ে ওঠা আনাই-আনুচিং ফুটবলেও গড়ে উঠছেন গলাগলি ধরে। অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বড় জয়ের ভিতটাও গড়ে দিয়েছিলেন দুই যমজ বোন। তবে দুজনের পার্থক্য আছে এক জায়গায়। ফুটবল মাঠে বড় বোন আনাই খেলেন রক্ষণভাগে, আনুচিং আক্রমণভাগে। দুই পজিশনে খেলা দুই বোনের পা থেকে এলো দুটি দর্শনীয় গোল।

১৮ মিনিটে মারিয়া মান্দার ছোট করে নেয়া কর্নার কিক ধরে গোলমুখে শট নিয়েছিলেন শামসুন্নাহার; কিন্তু ভুটানের এক ডিফেন্ডার তা ঠেকিয়ে দিলেন। ঠেকালেও বলটি বেশি দূরে নিতে পারেননি ভুটানের ওই ডিফেন্ডার। বল পেয়ে যান বক্সের বাইরে দাঁড়ানো আনাই। তার দুর্দান্ত শট ভুটানের জাল কাঁপিয়ে দিলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ডিফেন্ডার হয়ে বড় বোনের করা দর্শনীয় গোল দেখেই হয়তো অনুপ্রেরণা পান আনুচিং মগিনি। তাই তো তার করা দর্শনীয় গোলটি অনেকদিন চোখে লেগে থাকবে মানুষের। বক্সের বাইরে থেকে তার ডান পায়ের ভলিতে বোকা বনে যান ভুটানের গোলরক্ষক।

খাগড়াছড়ির অভাব অনটনের মারমা পরিবারে আসে এক সঙ্গে দুই সন্তান। যা আগে বুঝতে পারেনি তাদের বাবা-মা। আনাই-আনুর জন্মের পর মুখে খাবার দিতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন তাদের বাবা রিপ্রু মগিনি ও মা আপ্রুমা মগিনি। এখন সেই মেয়েরাই বাবা-মায়ের সংসারের হাল ধরেছেন বেশ ভালোভাবেই। তাও আবার ফুটবল খেলে।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দুই বোনের হাতে এসেছিল বেশ অর্থ। তা দিয়ে আনাই-আনুচিংয়ের বাবা-মা বাড়িতে ঘর দিয়েছেন। কিছু জমিও কিনেছেন। অভাব-অনটনের সংসাদের দুই যমজ বোন এখন বাবা-মায়ের চোখের মনি। তাদের জন্মের পর মুখে খাবার দেয়ার চিন্তায় যে বাবা-মায়ের কপালের ভাঁজ মোটা হয়েছিল, সেই বাবা-মায়ের বুক এখন গর্বে আরও চওড়া। ভুটান থেকে ট্রফি নিয়ে ফিরলে আনন্দের পাশাপাশি আর্থিক দিক দিয়েও হয়তো আবার একটু উপকৃত হবে খাগড়াছড়ির ওই মারমা পরিবার।

আরআই/আইএইচএস/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :