পাকিস্তান ক্রিকেটের মৃত্যু দেখছেন ওয়াকার ইউনুস


প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৫

বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সামনের দিনগুলোকে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য হুমকি মনে করছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমান পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ ওয়াকার ইউনুস।

প্রতিপক্ষ দলগুলি সিরিজ বয়কট করা অব্যাহত রাখলে পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘মৃত্যু’ ঘটবে বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন প্রাক্তন এই পেস বোলার।

২০০৯-এর মার্চে লাহোরে সফররত শ্রীলঙ্কা দলের ওপর জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় আট জন নিহত এবং সফরকারী দলের সাত খেলোয়াড় জখম হন। তারপর থেকেই অন্যান্য দলগুলি পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে আসছে না। ফলে দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না পাকিস্তান।  আর এই বিষয়টিই দেশের ক্রিকেটের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াকার।

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক মন্তব্যে বলেন, ‘দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে না। ফলে ছেলেদের এখন ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই জুনিয়র পর্যায়ে প্রতিভার অভাব দেখা দিয়েছে। আর এভাবে চলতেই থাকলে দেশে ক্রিকেটের মৃত্যু ঘটতে পারে। যতো শীঘ্র সম্ভব পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’

প্রথমসারির ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলি অনেকদিন ধরেই পাকিস্তানে সিরিজ খেলছে না। গত বছর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কেনিয়াকে এনে দেশে একটি সংক্ষিপ্ত একদিনের সিরিজ খেলানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিল। এ বছরের মে মাসে জিম্বাবুয়ে ও আরব আমিরাতকে সফরে আনার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

এ বারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। ওয়াকার মনে করছেন, এই হারই দেশে ক্রিকেটের গঠন ও পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘পাক ক্রিকেটকে বাঁচাতে চাইলে ঘরোয়া খেলার মান বাড়াতে হবে। কারণ, বিশ্বকাপের খেলার মানের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের মানের আসমান-জমিন তফাৎ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা অন্য দলগুলির থেকে পিছিয়ে রয়েছি।’

এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে ব্যাটিংকে চিহ্নিত করেছেন ওয়াকার। তিনি বলেছেন, ‘পাক ক্রিকেটের আমূল সংস্কারের উদ্যোগ এখনই নিতে হবে। তবে সবার আগে মনযোগ দিতে হবে ব্যাটিংয়ে। এখন ক্রিকেট খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। এর সঙ্গে আমাদের তাল রাখতে হবে। তাই এমন ব্যাটসম্যান দরকার যাঁরা ৩০০-র বেশি রান করতে সক্ষম।’

পাকিস্তানের বোলিং নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়াকার।

ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির বোলিং অ্যাকশন নিয়ন্ত্রণে বিরক্তি প্রকাশ করে ওয়াকার বলেন, ‘বোলারদের বোলিং অ্যাকশানের ব্যাপারে আইসিসি-র কড়া নিয়ম পাকিস্তানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিয়মের ফেরে সাইদ আজমল এবং মুহাম্মদ হাফিজ অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য সাসপেন্ড হয়ে যান। এই দুজনের দলে না থাকাটা আমাদের ভুগিয়েছে।’

সবশেষে ওয়াকার পাকিস্তানের ক্রিকেটকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিএ/এলএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।