বাংলাদেশকে ভয় পাচ্ছেন আম্পায়াররা!


প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

বাংলাদেশে খেলা পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছেন না আইসিসির আম্পায়াররা। এ জন্য এ দেশে আসতেও ভয় পাচ্ছেন তারা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পর দুই আম্পায়ার আলিম দার ও ইয়ান গোল্ডের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় বাংলাদেশে। অনেক তর্ক-বিতর্কও হয় এ খেলা নিয়ে।

এছাড়া আ হ ম মুস্তফা কামালের পদত্যাগের পর আইসিসির সভাপতি পদে বাংলাদেশ থেকে নতুন কাউকে মনোনীত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুক্রবার গুলশানে নিজ বাসায় এসব কথা জানালেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

প্রশ্ন : আইসিসির সভাপতি পদের জন্য নাম পাঠানোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা?

নাজমুল হাসান : মেয়াদ পূর্ণ হতে আড়াই মাস বাকি আছে। আগেরবার তারা বিসিবির কাছেই নাম চেয়েছিল, এবারও তারা বিসিবির কাছে নাম চেয়েছে। তবে লিখিত প্রস্তাব এখনও আসেনি, আমাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। এই এক বছর বাংলাদেশেরই সভাপতি থাকার কথা। সে অনুযায়ী প্রথম সুযোগ বাংলাদেশকেই দেয়া হবে।

প্রশ্ন : আইসিসি থেকে যদি আপনাকে সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়, তাহলে কী করবেন?

নাজমুল হাসান : অনেকেই ফোন দিয়েছেন আমাকে। বাইরের সাংবাদিকরাও আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, আমাকে আইসিসির সভাপতি হিসেবে চাওয়া হলে আমি কী করব। এখানে দুটি বিষয়- গতবার কামাল সাহেবের নাম আমাদের সরকার থেকেই প্রস্তাব করা হয়েছিল। আগে সেটাই হতো। এই প্রথম যখন আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডে এলাম এখন বিষয়টা ভিন্ন। তবে সরকারের কাছে তো আমাদের জানতেই হবে। এ ব্যাপারে বোর্ড মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে কামাল সাহাবের অবদান অনেক। তিনি আগে বিসিবির সভাপতি ছিলেন। উনি একটা জায়গা থেকে ফিরে এসেছেন, ওইখানে আরেকজন যাওয়া বেশ অস্বস্তিকর বিষয়। আমার কাছে আইসিসির চেয়ে বিসিবি অনেক বড়। আইসিসির কারণে যদি বিসিবি ছাড়তে হয়, সেটা আরেকটি সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা দরকার। আড়াই মাসের জন্য বিসিবি ছেড়ে যাওয়ার কারণ দেখি না। এছাড়া কামাল ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলা দরকার।

প্রশ্ন : আইসিসি সভাপতির ক্ষমতা আসলে কতটুকু?

নাজমুল হাসান : আমি আসার পরও আইসিসি সভাপতির অনেক ক্ষমতা ছিল। কিন্তু এরপর থেকেই সভাপতির কাজ শুধু পুরস্কার দেয়া। এছাড়া তেমন কিছু নেই। তবে যদি নাম কামানোর জন্য পদে যাওয়ার দরকার হয়, সেটা অন্য বিষয়।

প্রশ্ন : আ হ ম মুস্তফা কামালের পুরস্কার দিতে না পারা সম্পর্কে কী বলবেন?

নাজমুল হাসান : কামাল সাহেব পুরস্কার দিতে পারেননি এটা হতাশাজনক। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন; কিন্তু তারপরও না দিতে পারা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর সভাপতি যখন আমার পাশে ছিলেন, তখন একটা ধারণা ছিল যে উনি অন্তত এ বিষয়টা তদন্ত করার ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করতে পারবেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবেই বিষয়টা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেল। আমাদের ছেলেরা দারুণ পারফর্ম করেছে, আশা ছিল এসব নিয়ে একটু মজা করব, সেগুলো বাদ দিয়ে পুরো পরিস্থিতি এখন অন্যরকম। কী করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা একটা ধাক্কা খেয়েছি।

প্রশ্ন : কী পদক্ষেপ নেবেন আপনি?

নাজমুল হাসান : কামাল সাহেব যখন কথা বলেছেন তখন তিনি কিন্তু বিসিবির কেউ না। আর শ্রীনিবাসনও ভারতীয় বোর্ডে নেই। এর মধ্যে দুই বোর্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। যা হয়েছে তা আইসিসি নিয়ে। যারা আম্পায়ার ছিলেন তারাও কেউ ভারতীয় ছিলেন না। আমাদের ভাবতে হবে কোনটা ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে। আমি আইসিসির পরবর্তী সভায় জানতে চাইব, কেন তাকে পুরস্কার দিতে দেয়া হল না। এটুকু অধিকার আমার রয়েছে। কিন্তু এমন কিছু করা যাবে না, যা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর। আগে তো কোনো দেশ আমাদের এখানে আসতেই চাইত না। এখন দেখেন একের পর এক টুর্নামেন্ট হচ্ছে। আমরা ভারতের কাছে হেরেছি; কিন্তু সবাই আমাদের যেভাবে প্রশংসা করছেন তা অনেক বড় পাওয়া। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমাকে যখন বললেন, বাংলাদেশ তো অনেক ভালো দল। এটা অনেক বড় পাওয়া। সবাই আমাদের সঙ্গে খেলতে চাচ্ছে।

প্রশ্ন : ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত কিনা?

নাজমুল হাসান : আমাকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ফোন করেছিলেন। আরও অনেকে ফোন করেছে। আইসিসির নতুন গঠনতন্ত্রে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সব সময় একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। কিছু সমস্যা হতে পারে, এমন শংকা দূর করার জন্য যা যা করা দরকার তাই-ই করছি। কামাল সাহেব যেটা করেছেন সেটাকে আমি ভুল বলছি না।

বিএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।