দলের চেহারাটাই বদলে দিয়েছে মাশরাফি: পাপন
একের পর এক জয় এনে দিয়ে দেশের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের টাইগাররা। ক্রিকেট দুনিয়ায় নিজেদের নির্ভরশীল দলে পরিণত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। গত বছর এই জুনেই ভারত মাঝারি মানের একটি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। ওই সিরিজে সুরেশ রায়নার দলের কাছে (২-০) ব্যাবধানে হেরেছিল স্বাগতিকরা।
বৃষ্টি-বিঘ্নিত সেই সিরিজে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহিম। এরপর মুশফিককে সরিয়ে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। কারণ ওই সময় পরাজয়ের বৃত্তে বন্দী টাইগাররা। ওখান থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনার গুরু দায়িত্ব বর্তায় মাশরাফি ঘাড়ে।
মাশরাফির নেতৃত্বে সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথমে জিম্বাবুয়ে সিরিজ, এরপর বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে ঘরের মাঠে পাকিস্তান বধ- রূপকথার একটি সময় যেন পার করছে টিম বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অবশ্য একটিতে অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আর হাসান (বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। আর ঘরের মাঠে তো টানা ৯ ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ।
এ কারণেই মাশরাফির নেতৃত্বের ভুয়সী প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। শুক্রবার বিকালে টিম হোটেলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্যমুলক দেখা করতে যান বিসিবি সভপাতি। পরে সেখঅনেই তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই বাংলাদেশ দলের ধারাবাহিক সাফল্যের রহস্য প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেগুলো নেওয়া খুব কঠিন ছিলো। এমনকি অনেকেই মনে করেন সাকিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমার জন্য কঠিন এবং কড়া সিদ্ধান্ত ছিলো।’
তবে সাকিবের থেকেও সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটা ছিল ওয়ানডে অধিনায়কের পদে পরিবর্তন নিয়ে আসা। এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমি মনে করি ওই সময় সাকিবের বিষয়টির চেয়েও আমাকে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কারণ ওই সময় দল অনেকগুলো ম্যাচ জয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে ফিরে এসেছিল। সুতরাং আমার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয় ওয়ানডের নেতৃত্বে পরিবর্তন। মুশফিক আমাদের সেরা পারফর্মার। যখন অধিনায়ক ছিলো, তখনও তার পারফর্ম অনেক ভালো ছিলো। তাছাড়া অধিনায়ক হিসেবেও তার রেকর্ড ভালো। তবে আমি চাচ্ছিলাম তার ওপর থেকে চাপ কমাতে।’
বিসিবি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আর তাই মুশফিকের পরিবর্তে সেখানে আরেকজনকে আনার সিদ্ধান্তটা অনেক বড় এবং কঠিন হয়ে পড়েছিলো আমার সামনে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিতেই হলো এবং মাশরাফিকে নিয়ে এসেছি নেতৃত্বে। কারণ একটাই, সে অতুলনীয়। আর মাশরাফি মানুষ হিসেবেও এক কথায় অসাধারণ। তাছাড়া ওই সময় দলের মানসিকতায় পরিবর্তনের দরকার ছিল। এই কাজটা অন্যদের চেয়ে মাশরাফির পক্ষেই সবচেয়ে বেশি সহজ। এখন দেখুন! মাশরাফি নেতৃত্বে আসার পর দলের চেহারাটাই যেন বদলে গেছে।’
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের ন্যাক্কারজনক আচরনের কারণে সবশেষ হেরেছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে নিলো সেই হারের বদলা।
তবে নাজমুল হাসান, এটাকে ‘প্রতিশোধ’ বলতে নারাজ। তিনি মনে করেন, খেলাধুলায় প্রতিশোধ শব্দটা আনা উচিৎ নয়। তারওপর ভারত এখন বাংলাদেশের অতিথি।’
টিআই