দুধ বিক্রেতা থেকে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৬ পিএম, ১৭ মে ২০১৮ | আপডেট: ০১:২৪ পিএম, ২১ মে ২০১৮

চা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী, রাজমিস্ত্রি থেকে প্রেসিডেন্ট- এমন খবর পত্রপত্রিকায় হরহামেশাই দেখা যায়; কিন্তু দুধ বিক্রেতা থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল দলে এমনটা বোধহয় খুব কমই শুনে থাকবে মানুষ। এমন ঘটনাই ঘটলো ইংলিশ গোলরক্ষক নাইক পোপের জীবনে। ঠিক দশ বছর আগে দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন পোপ। অথচ এখন সে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে যাচ্ছেন রাশিয়ায় বিশ্বকাপ খেলতে!

ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারাথ সাউথগেট বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার নাম ঘোষণা করতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন পোপ। এই মৌসুমে বার্নলির হয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। দলও ৫২ বছরের ভেতর প্রথম সুযোগ পেয়েছে ইউরোপা লিগে। বার্নলির কথা না হয় আরেকদিন হবে। পোপের দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবের কিছুটা জেনে নেয়া যাক।

পোপের মাঝের এই যাত্রাটা মসৃণ ছিল না। ২০০৮ সালে ইপসউইচ টাউনের যুব দলে খেলার সুযোগ পান তিনি। ইপিউইচে প্রথম এসেই রিচারড রাইটকে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। স্বপ্ন দেখতেন ইংলিশ সাবেক গোলরক্ষক রিচার্ড রাইটের মত হওয়ার। পোপ নিজেই বলেন, ‘রিচার্ড রাইট আমার আইডল এবং তিনিই অনেকের মধ্যে অন্যতম গোলরক্ষক- যাকে আমি মৌসুমের টিকেট পাওয়ার পর প্রথম দেখার সুযোগ পাই। ইপসউইচ এমন এক দল ছিল যেখানে তেমন সমর্থন দেয়া হতো না এবং প্রতিনিয়ত আমায় মনে করাতো, আমাকে তারা চায় না। তুমি এখানে থাকার যোগ্য না। ১৬ বছর বয়সে এমন ধারণা একজন মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে।’

p

ইপসউইচের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলেই যোগ্য ছিলাম না। সত্যি কথা এবং আমি সম্ভবত তাদের সাথে একমত, কারণ তখন আমার কাছে এত সময় ছিল না, স্কলারশিপ অর্জন করার। আপনার নিজের লাগাম টেনে ধরে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য তখন লড়াই করতে হতো। আমি তেমনটা ছিলাম না। তাই এটা ঠিকই ছিল এবং এখন যেভাবে আমার জীবনটা পরিবর্তন হয়েছে সেটা আমার জীবনের সেরা ঘটনা এবং কোনোভাবেই এটাকে অস্বীকার করতে পারবো না। ইপসউইচ থেকে সরে এসে আমাকে সামনের দিকে তাকাতেই হতো এবং আমার জন্য সেরা কাজটার দিকেই আমাকে যেতে হতো। আমি সেটাই করেছিলাম।’

জীবিকার জন্য ফুটবল থেকে সরে এসে অন্যদিকে যেতে থাকেন পোপ। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট সাফক কলেজে বিজনেস মার্কেটিংয়ে কোর্স করেন এবং হঠাৎ করেই গাড়ি দিয়ে দুধ বিক্রি করার (ইলিক্ট্রিক মিল্ক ফ্লট) ব্যবসায় নেমে পড়েন তিনি। ঘণ্টা হিসেবে এখানে কাজ করতেন। এমনকি মাঝে মাঝে খুচরা বিক্রিও করতেন। কে জানতো, এরপরই জীবনের মোড় পাল্টে যাবে তার!

সাফক কলেজের সাথে সংযোগ ছিল ইংলিশ ক্লাব বারি টাউনের সাথে। সেই কলেজেরই শিক্ষক রিচার্ড উইলকিনস তাকে প্রেরণা যোগান আবার ফুটবলে ফিরে আসতে। কলেজের হয়ে একদিন খেলার পরেই সবার নজর কাড়েন পোপ। পরবর্তীতে ঐ কলেজের মাধ্যমে লিগ ওয়ানের ক্লাব বারি টাউনের হয়ে খেলার সুযোগ হয় তার। এখনো সেই উইল্কিনসের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন পোপ।

পোপ বলেন, ‘বারির হয়ে খেলা এবং উইলকিনস আমার জন্য বিশেষ কিছু। তারা আমাকে তিন বছর পরেই বিক্রি করে দিয়েছিল।’

p

বারি থেকে চার্ল্টন অ্যাথলেটিক ক্লাবে ২০১১ সালে যোগ দিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছরে ৬টি ভিন্ন ক্লাবে লোনে খেলেন পোপ। এর ভেতর সাবেক ক্লাব বারিতেও একবার লোনে খেলেন তিনি। পোপ বলেন, ‘আমি কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন লিগে খেলেছিলাম। আমি বারি টাউনের রিজার্ভ দল এসেক্স এবং সাফকের হয়ে বর্ডার লিগে খেলেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম সেটি সপ্তম বিভাগ লিগ। ব্রাইটলিন্সিয়া জায়গাটা খুব রুক্ষ। আশা করছি সেখানকার লোকেরা কিছু মনে করবে না। ছোট্ট ওয়াকলে গ্রামে যেতে মানচিত্র লাগতো। সেখানে গিয়ে খেলেছি। ওই গ্রামে বড়জোর ১০ জন মানুষ আর একটি কুকুর ছিল! জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে আপনার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যাতে পরবর্তীতে যেতে পারেন।’

২০১৬ সালে বার্নলিতে যোগ দিলেও তার প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বার্নলির প্রধান গোলরক্ষক টম হিটনের ইনজুরি তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্নলির হয়ে লিগে ৩৫টি ম্যাচ খেলে ১১টি ম্যাচেই ক্লিন শিট রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গোল খেয়েছেন মাত্র ৩৫টি! তার এমন পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ইংলিশ কোচের। তাই তো ৭২ ম্যাচ খেলা জো হার্টকে টপকে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন এক সময়ের দুধ বিক্রেতা নাইক পোপ।

আরআর/আইএইচএস/বিএ