আপিলে এবার মোবারক হোসেনের পালা
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে করা আরও ৯টি আপিল আবেদন সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের মামলা শুনানির জন্য তালিকার সবার উপরে আছে। আপিল বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার ধারাবাহিকতায় মোবারক হোসেনের পরে আছে সৈয়দ কায়সার , এটিএম আযহারুল ইসলাম ও জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর আব্দুস সুবহানের আপিল।
আপিল শুনানিতে পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালের যে মামলার রায় আগে হয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিলেও সেই মামলা আগে শুনানি হয়েছে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না বলে আশা রাষ্ট্র এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের। তারই ধারাবাহিকতায় মোবারক হোসেনের মৃত্যুদণ্ড খালাস চেয়ে করা আপিল আগে শুনানি হতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেনকে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। তিনি দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। এখনো আপিল শুনানির দিন ঠিক হয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী আদালত যে কোন দিন মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় রাখতে পারেন। ওই দিন থেকেই মামলায় আপিল শুনানি শুরু হতে পারে।
এছাড়াও আপিল বিভাগ গত ৮ মার্চ জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর আপিলের চূড়ান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদেস্যর বেঞ্চ মামলায় সংক্ষিপ্ত এই রায় দেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেমের আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়ে ৭ কার্যদিবসে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৩টি মামলায় ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ১৬টি আপিল আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ছয়টি মামলা নিষ্পত্তি এবং আপিলের রায়ের পরে রিভিউ নিষ্পত্তি করে চার জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে ৬ জানুয়ারি জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। তার প্রায় আড়াই মাস পর গত ১৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে। এখন তিনি রিভিউ আবেদন করবেন বলে তার আইনজীবীদের জানিয়েছেন। নিজামীর দণ্ড বহাল রেখে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ষষ্ঠ রায় এটি।
এর আগে আপিলের চূড়ান্ত রায়ে আরও চারটি মামলায় জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
আপিল বিভাগ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু করাদণ্ড দিয়েছে। এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ ইতোমধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে। এ রিভিউ আবেদনও শুনানির অপেক্ষায়।
জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম মৃত্যুবরণ করায় তাদের আপিল আবেদন অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।
এফএইচ/এআরএস/পিআর