রবীন্দ্রনাথের মজার ঘটনা: গানের অত্যাচার

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ১৬ মে ২০২২

শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক নেপাল রায়কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার লিখে পাঠালেন, ‘আপনি আজকাল কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য কাল বিকেলে আমার বাড়িতে এসে আপনাকে দণ্ড নিতে হবে।’

নেপালবাবু খুব দুশ্চিন্তায় পড়লেন। চিন্তায় চিন্তায় রাতে তার ঘুম হলো না। সকাল হতেই তিনি ছুটলেন গুরুদেবের কাছে। বসার ঘরে তটস্থ হয়ে বসে ছিলেন নেপাল। না জানি কী ভুলের জন্য আজ কী দণ্ড পেতে হয়!

মোটা একটা লাঠি হাতে ঘরে প্রবেশ করলেন রবিঠাকুর। নেপালবাবু ভাবলেন, দণ্ড হিসেবে বোধ হয় এ যাত্রা লাঠির বাড়িই খেতে হবে!

কবি লাঠিটি নেপালবাবুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই নিন আপনার দণ্ড। সেদিন যে আমার বাড়িতে এসে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে বসে আছেন!’

একবার এক সভা শেষে ফেরার পথে কবিগুরু চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে বললেন, ‘দেখলে চারু আমার প্রায়শ্চিত্ত। আমি নাহয় গোটা কয়েক গান কবিতা লিখে অপরাধ করেছি। তাই বলে আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে এ রকম যন্ত্রণা দেওয়া কি ভদ্রতাসম্মত? গান হলো। কিন্তু দুজনে প্রাণপণ শক্তিতে পাল্লা দিতে লাগলেন যে কে কত বেতালে বাজাতে পারেন আর বেসুরে গাইতে পারেন।

গান যায় যদি এ পথে তো বাজনা চলে তার উল্টো পথে। গায়ক-বাদকের এমন স্বাতন্ত্র্য রক্ষার চেষ্টা আমি আর কস্মিনকালেও দেখিনি। তারপর ওই একরত্তি মেয়ে, তাকে দিয়ে নাকিসুরে আমাকে শুনিয়ে না দিলেও আমার জানা ছিল যে, “তঁবু মঁরিতে হঁবে”।’

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

কেএসকে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]