ভিপি সাদিক

ডাকসুতে যতদিন আছি ততদিন ফাও খাওয়া-চাঁদাবাজি ফেরত আসতে পারবে না

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাবি
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম/ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটি যতদিন আছে ততদিন ক্যাম্পাসে গণরুম, গেস্টরুম, ফাও খাওয়া ও চাঁদাবাজি ফেরত আসতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার টিচার্স লাউঞ্জে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়।

ঢাবি শিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ফ্যাসিবাদী সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল। আমি ২০১৭ সালে এই ক্যাম্পাসে এসেছি। তখন থেকে দেখে আসছি শিক্ষার্থীদের যে কোনো প্রয়োজনে সাংবাদিক সমিতি পাশে ছিল। গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে নয় দফার প্রচারে সাংবাদিকদের ঋণ কখনো পরিশোধ করা যাবে না। আমরা আশা করি, বিগত সময়ে সাংবাদিক সমিতি যেভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, সামনেও এভাবে পাশে থাকবে।’

ডাকসু ভিপি দাবি করেন, তাদের বর্তমান কমিটি যতদিন আছে ততদিন ক্যাম্পাসে গণরুম, গেস্টরুম, ফাও খাওয়া ও চাঁদাবাজি ফেরত আসতে পারবে না। সাংবাদিক সমিতি এতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মৌলিক সমস্যা- আবাসন সমস্যা, সেটা অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু প্রশাসনের একটা অংশ চাচ্ছে এই প্রকল্প যাতে বাস্তবায়ন না হয়। তারা এই টাকা অন্য খাতে ব্যয় করতে চাচ্ছে। আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করবো যাতে এই প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমিতি থেকে আমরা আশা করবো, তারা এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

এসময় ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে সাংবাদিক সমিতি। শিক্ষার্থীদের যে কোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মহিউদ্দিন মুজাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি শিক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা। আমরা আশা করি ডাকসু খুব দ্রুত তা চালু করে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে। ডাকসু ও শিবির যতদিন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ততদিন তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

ঢাবি শিবির সভাপতি ও ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মু. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘ঢাবি সাংবাদিক সমিতি সব সময় দৃঢ়তার সঙ্গে সত্য প্রকাশ করে গেছে। তারা সব সময় ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আমরা সাংবাদিক সমিতিকে সব সময় পাশে পেয়েছি। আশা করবো, তারা ভবিষ্যতেও তাদের এই লিগ্যাসি জারি রাখবে, সব সময় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান, অফিস সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ প্রমুখ।

এফএআর/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।