ডিজেলের বিকল্প সৌরশক্তি, কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

কৃষিতে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ এবং যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি (বিসিইউ) এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘স্মার্ট-সিপ প্লাস: বাংলাদেশে সৌরচালিত সেচপাম্পের উদ্বৃত্ত শক্তির বহুমুখী ব্যবহারে উদ্ভাবনী উদ্যোগ’ প্রকল্পের একটি প্রযুক্তি প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকার ধীতপুরে কেন্দ্রটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষি প্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন প্রকল্পটি একটি আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগের ফসল। যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার (ইউকেআরআই) অধীনে যুক্তরাজ্য সরকারের আয়ারটন ফান্ডের অর্থায়নে এই গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন, ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পপুলেশন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। প্রকল্পের আন্তর্জাতিক প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিসিইউ’র অধ্যাপক ড. লিনসি মেলভিল এবং বাংলাদেশে এই গবেষণার মূল সমন্বয়ক (ইন-কান্ট্রি লিড) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা।

এই গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সৌরচালিত সেচপাম্পের উদ্বৃত্ত বা বাড়তি শক্তিকে কৃষির অন্যান্য উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা। উদ্বোধন শেষে প্রদর্শন কেন্দ্রে সৌরশক্তি চালিত বেশ কয়েকটি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা সফলভাবে প্রদর্শন করা হয়।

এই সমন্বিত প্রযুক্তির মাধ্যমে একই শক্তির উৎস ব্যবহার করে জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি সোলার হলার দিয়ে ধান ভাঙানো, সোলার ড্রায়ারের সাহায্যে শস্য শুকানো এবং সৌরচালিত মাড়াই যন্ত্রের কাজ একযোগে সম্পন্ন করা সম্ভব।

সৌরশক্তি ব্যবহার করে কোন যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করছে, তা উপস্থিত সবার সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রকল্পটির যৌথ প্রধান গবেষক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।

বাংলাদেশে প্রকল্প প্রধান ও বাকৃবি অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে চাই। আর সেক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ হলো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার। এই কেন্দ্রে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে জমিতে সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে, ধান মাড়াই ও শুকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ডিজেলচালিত যন্ত্রের ব্যবহার কমবে, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষির টেকসই উন্নয়ন হবে।

প্রকল্পের বৈশ্বিক গুরুত্ব ও কৃষকদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. লিনসি মেলভিল বলেন, প্রকল্পের জন্য কৃষক নন, কৃষকের জন্য প্রকল্প। আমরা এই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই যাতে তাদের কায়িক পরিশ্রম কমানো যায়। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারে আমরা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। এটি কৃষক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি পর্যায়ের জন্য শক্তির একটি টেকসই সমাধান।

এই উদ্ভাবনী কেন্দ্রটি আগামী দিনে বাংলাদেশের কৃষি খাতে ফসলের উৎপাদন-উত্তর অপচয় রোধে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি সফল মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।