জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা
অভিযুক্তের গ্রেফতার ও প্রক্টর-প্রভোস্টকে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সাংবাদিকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রধান ফটকের সামনে হল সংসদ ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম আবর্তনের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ ও কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বোরহান বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী বলে মনে করি।
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের শুরুতে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিলেও পরে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অংশগ্রহণ কমে যায়। প্রকৃত সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো, অপরাধীর দ্রুত গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা।

তিনি আন্দোলনের নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পক্ষকে ট্যাগিং ও অপমান করার প্রবণতার সমালোচনা করেন। যৌক্তিক দাবি থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় তার পক্ষে থাকে। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করেন না বলে জানান।
সমাবেশে হল সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) আবরার শাহরিয়ার বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমকে হেনস্তা করা ও উপাচার্যকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করায় বর্তমান প্রক্টরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এমএন/এমএস