`ঘাটতি বাজেটে ব্যাহত হচ্ছে রাবির শিক্ষা ও গবেষণা কাজ`
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেছেন, রাবি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এর চাহিদা অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। বিগত ২০০০-০১ থেকে বর্তমান ২০১৪-১৫ আর্থিক বছর পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয় ঘাটতি বাজেট নিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার রাবির সিনেটের ২১তম সিনেট অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, একুশ শতকের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাহিদা ও প্রতিযোগিতামূলক একাডেমিক বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কথা বিবেচনা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আগামীতে আরো ১৩টি বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট খোলার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন করতে প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় সিনেটররা বাজেটে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় বৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় সংকোচনসহ বেশকিছু পরামর্শ দেন। অধিবেশনে ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজেস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবসহ ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ও ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস’র কয়েকটি ধারা-উপধারা সংশোধন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ অধ্যাদেশ-২০১৫-কে দ্বাদশ সংবিধি করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে ৬২ বছরে উন্নীত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ তহবিল সংক্রান্ত ধারা সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সেই সঙ্গে ২১তম অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনের শুরুতে সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর মরহুম বিশিষ্টজনদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও রূহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়। এ অধিবেশনে ৫৩ জন সিনেটর উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনটি সঞ্চালন করেন সিনেটের সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম. এন্তাজুল হক।
রাশেদ রিন্টু/এআরএ/আরআই