জাবিতে শিক্ষকের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষকের নেতৃত্বে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে হামলার অভিযোগ করেছে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ হানিফ আলী, সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাসান ইমাম নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপক মুহম্মদ হানিফ আলী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, শুক্রবার রাতে ভূতাত্বিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিদ্যুৎ সংযোগ দুই দফায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে মশাল মিছিল শেষে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের নেতৃত্বে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে হামলা চালায়। হামলায় তৃতীয় তলার ক্লাসরুমের জানালা ও নিচে স্থানান্তরের জন্য রাখা আসবাবপত্রে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ভূতাত্বিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মশার মিছিল শেষে ছোড়া ঢিলের আঘাতে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম মমিন আহত হয়ে রক্তাক্ত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢিলের আঘোতে সে আহত হয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া হামলার সময় ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রীতম, তুহিন, অনিক ও সৌম্য ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বর্ষন, হাবিব, মোস্তফা ও অভি উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ হানিফ আলী বলেন, মশাল মিছিলের সময় আমি ভবনের ভেতরে আমার অফিসে ছিলাম। কেউ যদি প্রমান করতে পারে মশাল মিছিলের সময় আমি বাহিরে গিয়েছিলাম তবে আমি চাকুরি ছেড়ে দেব।
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ. এন. এম. ফখরুদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে উপাচার্যকে জানিয়েছি। শনিবার লিখিতভাবে প্রশাসন বরাবর অভিযোগ করব। আমরা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজের শাস্তি দাবি করছি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ‘ভূতাত্বিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবন’ এর নবনির্মিত ৩য় তলা বরাদ্দ দেয়। ইতিমধ্যে তারা ভবনে উঠে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ভবনের ১ম থেকে ৩য় তলা পর্যন্ত হস্তান্তরের দাবিতে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
হাফিজুর রহমান/এআরএস/এমএস