রাবিতে ছাত্রকে আটকে রেখে ছাত্রলীগের নির্যাতন


প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ১৪ জুন ২০১৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসা ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে চাঁদার দাবিতে ২০ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের ১৪১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে ছাত্রলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার মো. জাহাঙ্গীর আলম নওগাঁ জেলার পোরশা থানার মো. নিজামউদ্দিনের ছেলে। তিনি ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) কোর্স শেষ করেছেন।

জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে জানান, শনিবার সে রাজশাহীতে বেড়াতে আসে। এদিন বিকেলে রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত তার পূর্ব পরিচিত এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসে। ওই দিন সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ কৌশিক, সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি, সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ছাত্রলীগ কর্মী এরশাদুর রহমান রিফাতের নেতৃত্বে ১০/১২ জন নেতাকর্মী তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হলের মাঠে ডেকে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে তারা তাদেরকে জোর করে বিয়ে দিতে চাই।  এসময় তারা রাজি না হওয়ায় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে রাতে জোর করেই তাকে তার বান্ধবীর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  পরে মেয়েটিকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে জাহাঙ্গীরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে কৌশলে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগ ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জাহাঙ্গীর হল থেকে চলে যেতে চাইলে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে হলের ২৪২ নম্বর কক্ষে আটকে রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে একই হলের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে তাকে মারধর করে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী কাফি। এসময় অন্য নেতাকর্মীরাও তার ওপর নির্যাতন চালায়।  একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  পরে আবারও কক্ষ পরিবর্তন করে তাকে হলের মধ্য ব্লকের নিচ তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায় তারা। ওই সময়ও তাকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা।  পরে তার কাছে আরো ৩০ হাজার টাকার দাবি করে। ওই শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা।

এসময় তার পরিচিত বন্ধুরা বারবার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, দায়িত্বরত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অবহিত করলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। পরে জানাজানি হলে রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িতরা এসময় সেখানে অবস্থান করলেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ।

এছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি বিষয়টি জেনেও এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার।  সংগঠনের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, রোববার সকাল থেকেই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি জানা সত্বেও অজ্ঞাত কারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যওয়ায় ছাত্রলীগ নাম ব্যবহার করে অনেকেই অপকর্ম করছে।

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।