মঙ্গলবার শাবি ভিসির কার্যালয় ঘেরাও`র ঘোষণা
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অযোগ্যতার অভিযোগ এনে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে দুই মাসের ছুটি শেষে বুধবার (২৪ জুন) ক্যাম্পাসে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় রোববার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন শিক্ষকরা। একই সাথে মঙ্গলবার ভিসির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন শিক্ষকরা। পরে সেখানে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান শ্যামল এবং সহকারী প্রক্টর মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ভিসি ২ বছর আগে যোগদান করার সময় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ভালভাবে চালানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেদিকে উনি কর্ণপাত করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে উন্নয়ন করতে হয় সেটা তিনি জানেন না। এই ভিসি দু`বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইটও সরান নি। বিশ্ববিদ্যালয় ভালভাবে চালানোর জন্য একজন যোগ্য ভিসি নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সৈয়দ হাসানুজ্জামান শ্যামল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্বের বিষয়। ছাত্র-শিক্ষক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভিসির কোন আন্তরিকতা নেই। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত ঝরিয়ে বিদেশে চলে যান।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সামসুল আলম বলেন, গত ২২এপ্রিল কোষাধ্যক্ষসহ সিনিয়র শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ভিসি ছুটিকালীন সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ক্যাম্পাসে ফেরার ঘোষণা দিয়ে তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করছেন।
যোগাযোগ করা হলে ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভুঁইয়া জাগো নিউজকে আগামী বুধবার (২৪ জুন) ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরারা কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জহির বিন আলম গত ১২এপ্রিল সকালে একাডেমিক ভবন ‘এ’ তে এসে পদার্থ বিজ্ঞান ও জিওগ্রাফি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে অশালিন ভাষায় কথা বলেন। পরে এ বিষয়টি অবহিত করতে বিকেল সাড়ে ৪টায় দুই বিভাগের ১১জন শিক্ষক ভিসির সাথে দেখা করতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করে তাদেরকে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠে।
এর জের ধরে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের ৩৭টি পদে দায়িত্বে থাকা পরিষদের ৩৫জন শিক্ষক পদত্যাগ করেন। পরে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য গত ২৩ এপ্রিল দুই মাসের ছুটিতে যান।
এসএস/পিআর