বশেমুরবিপ্রবির ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০০ এএম, ১১ আগস্ট ২০২০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় চারজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ হেফাজতে নেয়া চারজন হলেন, সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, নাসিম, মো. আমিনুর রহমান এবং ননিগোপাল রায়। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একটি মামলা রুজু করলে তদন্তের প্রয়োজনে তাদেরকে থানায় ডাকা হয়।

জনসংযোগ দফতর ও লাইব্রেরির কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরি থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। সরেজমিনে চুরির স্থান পরিদর্শনে গেলে সেখানে ৬টি কম্পিউটার ভাঙাসহ ৪৯টি কম্পিউটার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

এদিকে চুরির তথ্যে অমিল এবং সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়া এবং গত ২৩ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন সিকিউরিটি গার্ডের মধ্যে ২০ জন কোনো ধরনের ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

বিগত তিনবছরের বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা ও অপরাধীদেরকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টিকে তুলে ধরে একপ্রকার বিচারহীনতার শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নুরউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর আগের ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত করে ধরতে না পারলেও আমরা আশাবাদী এবার ধরতে পারব।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তকাজ শুরু করেছি এবং তদন্তের স্বার্থে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অপরাধীদের ধরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির তদন্তের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ২০ জন নিরাপত্তাকর্মীর অনুপস্থিত থাকার যথাযথ কারণ উল্লেখসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]