ইভটিজিংয়ের পর জিম্মি করে টাকা আদায়, ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৫ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২২
ছাত্রলীগ নেতা ইমাম হাসান শুভ

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে বাঙলা কলেজের এক ছাত্রীকে হেনস্তা ও জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী সুমাইতা লাইছা বুশরা।

এতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উপ-মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও বনানী থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমাম হাসান শুভসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাব্বির হাসান রাতুল, রাশেদুল ইসলাম সামি, মো. মেহেরাব হোসাইন ইকরাম ও সৈকত সম্রাট৷

রোববার (২৩ অক্টোবর) দিনগত রাতে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আযম মিয়া।

তিনি বলেন, হেনস্তার শিকার সরকারি বাঙলা কলেজের এক ছাত্রী মামলার জন্য অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে মামলা রেকর্ড করেছি। মামলা নম্বর ৩৪। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ১০ ও ৩৮৬ ধারায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী ছাত্রী উল্লেখ করছেন, আমি সরকারি বাঙলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। গত ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বাঙলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে বনানী থানাধীন সরকারি তিতুমীর কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে যাই। পরীক্ষা শেষে আমি ও আমার বান্ধবী তিতুমীর কলেজের মাঠে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। তখন ইমাম হাসান শুভ মোটরসাইকেল নিয়ে এসে আমাকে উদ্দেশ্য করে জনসম্মুখে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল মুখভঙ্গিতে কথাবার্তা বলে উত্যক্ত করতে থাকেন, যা আমার জন্য মানহানিকর।

এরপর আমরা যে যার বাসায় উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথে আমার আরেক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। তখন ইমাম হাসান শুভ আবারও আমার কাছে এসে উত্যক্ত করতে শুরু করেন। তার মোটরসাইকেলের পেছনে বসা অজ্ঞাতনামা অন্য একজন আমাকে দেখে কটূক্তি ও উত্যক্ত করেন। পরে আমি ও আমার বন্ধু কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনে পৌঁছালে তারা আবারও আমার পিছু নেয়। তখন বিরক্ত হয়ে একটি ইটের টুকরা শুভর মোটরসাইকেলের দিকে ছুড়ে মারি।

ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, এসময় শুভর সঙ্গে আরও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন পর্যায়ক্রমে এসে যোগ দেন। এরপর তারা আমার বন্ধুকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং আমার ছোড়া ইটের টুকরায় মোটরসাকেলের ক্ষতি হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুভ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তারা ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। নিরুপায় হয়ে আমাদের কাছে থাকা তিন হাজার টাকা তাদের দিই এবং কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমা চাইতে বাধ্য হই।

এ ঘটনায় ‘ইভটিজিংয়ের পর ছাত্রীকেই জিম্মি করে টাকা নিলেন ছাত্রলীগ নেতা’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হয়৷

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লাইসা জাগো নিউজকে বলেন, ওইদিনের ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷ আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় বাসা থেকে বের হতে পারিনি। তাই আজ মামলা করেছি৷ আমি চাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক৷

নাহিদ হাসান/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।