জকসু নির্বাচন
স্থগিত হওয়া ভোট গণনা মধ্যরাতে আবার শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায়। দীর্ঘ বিরতি ও কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দিনগত রাত সাড়ে ১২টার পরে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অপটিক্যাল মার্ক রেকগনিশন (ওএমআর) মেশিনেই ভোট গণনা করা হবে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার পর নৃবিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনার মধ্য দিয়ে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা শুরু হয়। তবে এক ঘণ্টা পার হলেও ওই বিভাগের ভোট গণনা শেষ হয়নি। এরপর পুনরায় ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে এভাবেই আরও ৩৮টি বিভাগ, দুটি ইনস্টিটিউট ও একটি হল সংসদের ভোট গণনা সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে, জকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সব প্যানেলের ভিপি ও জিএস প্রার্থী, শিক্ষক সমিতি, বিভাগীয় প্রধান, ডিন, সিনেট সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সবার উপস্থিতিতেই ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমে ৩০০ ভোট হাতে গণনা করা হবে। এরপর সেই ভোট দুটি ওএমআর মেশিনে গণনা করে ফলাফল মিলিয়ে দেখা হবে। যে মেশিনের ফল হাতে গণনার ফলাফলের সঙ্গে মিলবে, সেই মেশিনেই পরবর্তী ভোট গণনা করা হবে। পাশাপাশি, নিয়মিতভাবে হাতে গণনার মাধ্যমে ওএমআর মেশিন যাচাই করা হবে।
ওএমআর মেশিনে ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোট গণনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ভোট গণনার জন্য দুই সেটে মোট ছয়টি মেশিন আনা হলেও একটি সেটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধান হলে রাত দেড়টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়।
সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জাগো নিউজকে বলেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনের ব্যাপকতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক উদ্যোগ নেয়। জকসু নির্বাচনের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।
ক্যাম্পাসের বড় ডিজিটাল বোর্ডে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে।
নির্বাচনি সহিংসতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুরো ক্যাম্পাস ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। প্রায় ২০ বছরের অচলাবস্থা ভেঙে ১৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, গেলো বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন ভোরে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দিনভর ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর দীর্ঘ ২০ বছরেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন হয়নি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
এমডিএএ/এমএমকে