১০১ বই দেনমোহরে বিয়ে করলেন অন্তরা-মিথুন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২২

বিয়েতে দেনমোহর কত হবে, এ নিয়ে কনে ও বরপক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও বিরল না। অনেকে আবার দেনমোহরকে কনের সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখেন। কিন্তু এবার দেনমোহর হিসেবে টাকা কিংবা স্বর্ণালঙ্কার না চেয়ে বই দাবি করলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া পারভীন অন্তরা।

গত ৩১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল মিথুনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়েবন্ধনে জড়ান অন্তরা। তাদের উভয়ের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলায়।

বিয়ের আসরে দেনমোহর নিয়ে দরকষাকষির দৃশ্য যখন সচরাচর তখন ব্যতিক্রমী এই দেনমোহরের চাহিদা অবাক করেছে বরপক্ষসহ সবাইকে। শেষে দাবি অনুযায়ী ১০১টি বই হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভিন্নধর্মী এই দেনমোহর পরিশোধ করে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তুষ্টির কথা জানান বর-কনে দুজনই। বইগুলো নিয়ে পারিবারিক গ্রন্থাগার গড়ার কথাও জানান তারা।

jagonews24

এ বিষয়ে সুমাইয়া পারভীন অন্তরা বলেন, একসময় ভাবতাম হয়তো অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারই কেবল দেনমোহর হতে পারে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জানতে পারি, অন্য যে কোনো কিছুই দেনমোহর হতে পারে। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বিয়েতে ১০১টি বই দেনমোহর হিসেবে চাইবো। আমি আমার ইচ্ছার কথা বাবা-মাকে জানালে তারা প্রথমে অবাক হলেও আমার চিন্তার প্রশংসা করেন। আমার বাবা তখনই বইয়ের নাম সংগ্রহ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই থেকে আমি পছন্দের ১০১টি বইয়ের নাম সংগ্রহ শুরু করি। পরিবারের অন্য কোনো সদস্যও এ বিষয়ে দ্বিমত করেননি।

স্ত্রীর ব্যাতিক্রমী ইচ্ছা নিয়ে রুহুল মিথুন বলেন, বিয়ের আগে দুই পরিবার আলোচনার সময় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে দেনমোহর হিসেবে অর্থ প্রস্তাব করা হলেও আমার শ্বশুর তার মেয়ের ইচ্ছার কথা জানান এবং ১০১টি বইয়ের লিস্ট দেন। এতে সবাই অবাক হন, পরে আমি তাদের বুঝিয়ে রাজি করিয়েছি। লিস্ট ধরে বইগুলো খুঁজে পেতে কিছুটা কষ্ট করতে হয়েছে, তবে বিষয়টি খুবই উপভোগ করেছি।

তিনি বলেন, বিয়ের আসরেই দেনমোহর পরিশোধ করি এবং আমরা দুজনই বিষয়টি নিয়ে খুশি। বিয়ে পড়ানোর সময় কাজি প্রথম এমন দেনমোহরে কিছুটা আপত্তি জানান, তবে সবাই মিলে তাকে বোঝানোর পর বই দেনমোহর হিসেবে রেখেই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

রুহুল মিথুন আরও বলেন, আমার ছোটবেলা থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা ছিল। যার কারণে বইপ্রেমী কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চাইতাম। সৃষ্টিকর্তা সেটি পূরণ করেছেন।

রুমি নোমান/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।