বুয়েটে ৭২ গবেষণায় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ৭২টি গবেষণা প্রস্তাবনার বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১৫৫টি গবেষণা প্রস্তাবনা থেকে ৭২টি চূড়ান্ত করা হয়। সময়োপযোগী ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় সহায়ক এসব গবেষণা কার্যক্রমে বুয়েটের ১৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন।
এ উপলক্ষে বুয়েটের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাইজ)- এর উদ্যোগে গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই ভবনের ৮ম তলায় রাইজ কনফারেন্স রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি ও বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ. রহমান বলেন, বাংলাদেশে সেই পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠান (বুয়েট) তার নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড ধরে রেখেছে। বুয়েট গ্র্যাজুয়েট বললেই সব জায়গায় আলাদা মূল্যায়িত হওয়া যায়।
বুয়েটের বর্তমান প্রশাসনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ কিংবা ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গবেষণার বিকল্প নেই। বুয়েট রাইজ সেন্টারের মাধ্যমে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমার পক্ষ থেকে এবং আমার অধীনে যে সেক্টরটি রয়েছে তার পক্ষে থেকে বুয়েটকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, একটা সময় শুধু পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের গবেষণার অনুমতি দেওয়া হতো। কিন্তু আমি দেখেছি আমাদের অনেক আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর বিদেশের বিভিন্ন ভালো কনফারেন্স ও সেমিনারে রিসার্চ প্রোপোজাল গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ফান্ডের অভাবে তারা সেটি উপস্থাপন করতে যেতে পারেন না। পরে আমি ডিএসডব্লিউ (পরিচালক, ছাত্রকল্যাণ) হওয়ার পর অ্যালামনাইয়ের মাধ্যমে কিছু ফান্ডের ব্যবস্থা করি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি গবেষণায় বুয়েটের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এক্ষেত্রে সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সবসময় সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন বলেন, বুয়েট থেকে আপনাদের যে গ্র্যাজুয়েট দেবো তারা হলো ট্রাইঅ্যাঙ্গেল এক্সপেরিয়েন্স। যাদের এক কর্নারে থাকছে নলেজ, অন্য কর্নারে পাওয়ার স্কিল এবং তার চূড়ায় থাকবে অ্যাটিটিউড। সুতরাং আত্মবিশ্বাস কিংবা দক্ষতায় কোনো ঘাটতি থাকবে না আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের।
অনুষ্ঠানে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাইজ)- এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে বুয়েটের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএম/কেএসআর/জিকেএস