গণরুম উঠে যাচ্ছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) হলগুলোর গণরুম বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিন ধরে গণরুম ঐতিহ্য থেকে আবাসিক হলগুলোকে বের করতে উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন। এক বছর আগেও প্রতিটি হলে শিক্ষার্থীদের গণরুমে গাদাগাদি করে ৫০-৬০ জনকে একত্রে থাকতে হতো। এতে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে না পারাসহ নানা অসুবিধায় ভুগতো শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের গণরুমে (১০৯) শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল রুম দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছোট-বড় গণরুম বিলুপ্ত হয়। তবে এখনো কিছু রুমে ৫-১২ জন থাকলেও সেগুলো সিঙ্গেল সিটের ৪ জনের রুম। তবে তাদেরও সিঙ্গেল সিটে তুলে দেওয়ার জন্যে প্রতিনিয়তই চলছে আলোচনা এবং সিটের খোঁজ। তারাও অতিদ্রুত সিঙ্গেল সিট পাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস তাদের।
এর আগে গণরুমের ঐতিহ্য থেকে বের হতে নতুন ভর্তি হওয়া জুনিয়রদের (২২ ব্যাচ) নতুন নির্মিত হলে সিঙ্গেল সিটে তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে ২১ ব্যাচকেও হলের সিঙ্গেল সিটে তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ১৯ ব্যাচসহ ওপরের ব্যাচ গুলোর আগেই সিঙ্গেল সিটের ব্যবস্থা করা হয় বঙ্গভিত্তিক বড় ভাইদের মাধ্যমে। কিন্তু বিপত্তি বাদে ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। নানা কারণে দীর্ঘদিন সিঙ্গেল সিট দিতে দেরি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে গত ৩১ মে রাতে শেখ হাসিনা হলের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দুই কার্যদিবসের মধ্যে সিঙ্গেল সিটের দাবিতে অবস্থান নিলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এ বিষয়ে জাগো নিউজেও খবর প্রকাশিত হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে সিঙ্গেল সিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হলে ফেরানো হয় ছাত্রীদের। এর পরদিনই নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের ২০ ব্যাচ প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করলে ৭ দিনের মধ্যেই সিঙ্গেল সিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিব জাগো নিউজকে বলেন, আমরা আগে এক রুমে ৯ জন থেকেছি। জুনের ১ তারিখ প্রশাসনের সঙ্গে সিটের ব্যাপারে কথা বললে ওইদিনই হলের প্রাধ্যক্ষ আমাদের বড় ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ৭ দিনের মধ্যেই আমাদের সিটের ব্যবস্থা করে দেন। তবে এখন একরুমে ৫ জন আছি।
শেখ হাসিনা হলের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আগে এক রুমে ১০-১২ জন থাকতাম। সিঙ্গেল সিটের জন্য হলগেটে দাবি জানালে ৭ দিনের মধ্যেই সিঙ্গেল সিটের ব্যবস্থা করে দেন প্রশাসন।
তবে শেরেবাংলা হলের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিক ইকবাল জাগো নিউজকে বলেন, অন্যান্য সব হল থেকে গণরুম এবং এক সিটে দুজন করে থাকা শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল সিট দিলেও আমাদের কোনো সুরাহা হয়নি। আমরা এখনো এক রুমে (১০১) ১২ জন করে থাকছি। আমাদের হলে শুধু আমরাই এভাবে থাকছি। প্রাধ্যক্ষের সাথে একাধিক দেখা করেও কোনো সুফল মেলেনি। কয়েকবার যাওয়ার ফলে আমাদের অস্থায়ীভাবে স্টাফরুমে থাকতে বলেছিল। আমরা কয়েকজন সেখানে থাকতে রাজি হয়েছিলাম। তবে পরে অজানা কারণে আর উঠতে দেয়নি।
নজরুল হলের জয়নুল আবেদিন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ৪ জনের রুমে ৬ জন থাকি। আমাদের অন্য লেভেলমেটরা সিঙ্গেল সিট পেয়েছে। তবে আমাদের বড় ভাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে সিঙ্গেল সিটের জন্যে কিন্তু সিট কম থাকায় হয়ে উঠছে না। গতকালও বড় ভাইদের সাথে আলোচনা হয়েছে আজকেও হবে। আশাকরি শিগগির সিঙ্গেল সিট পাবো।
সার্বিক সিটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. অলোক কুমার পাল জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের নৈতিক দায়িত্ব আমাদের শিক্ষার্থীদের সঠিক আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যেখানে সিট ফাঁকা ছিল খোজ নিয়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়েছি। এখনো যারা সমস্যায় রয়েছেন তাদের দ্রুত তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তাসনিম আহমেদ তানিম/এমআইএইচএস/এমএস