রোয়ানুর আঘাতে জর্জরিত সৈকতের ঝাউগাছ
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে জর্জরিত হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের ঝাউবিথী। সাগরের জোয়ারের পানিতে প্রায় দুই শতাধিক ঝাউগাছ উপড়ে গেছে বলে ধারণা করছেন বন কর্মকর্তারা। বাতাসের তোড়ে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে উপড়ে যাওয়া অধিকাংশ ঝাউগাছ।
প্রায় প্রতিবর্ষা কিংবা মৌসুমী ঘূর্ণিচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানি ঝাউগাছ উপড়ে নিলেও সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনকারী এসব গাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে ঝাউবাগান আজ বিলীন হতে বসেছে।
শনিবার রোয়ানুর তাণ্ডব কালে দেখা গেছে, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট, নাজিরারটেক, সুগন্ধা পয়েন্ট, শৈবাল, লাবণী, কলাতলী ও সী-ইন পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাগরের বালিয়াড়িতে উপড়ে পড়ে আছে অনেক দৈর্ঘের অসংখ্য ঝাউগাছ। রোয়ানুর প্রভাবে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রবল জোয়ারের পানির ঢেউয়ের ধাক্কায় সৈকতের ঝাউগাছের গোড়া থেকে বালি সরে গিয়ে এসব গাছ উপড়ে গেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এভাবে চলতে থাকলে সৈকতের সৌন্দর্য বিলীনের পাশাপাশি পরিবেশ ক্ষতির ও হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। 
বনবিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের প্রায় ৫৪০ হেক্টর জমিতে ১৯৯৩-৯৪ সালে লাগানো হয় এসব ঝাউগাছ। এগুলো দিনে দিনে সবুজের সমারোহ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি সৈকতে বেড়াতে আসা লোকজনকে একটি অন্যরকম সুরের মূর্চনায় অভিভূত করে রাখে ঝাউগাছ। এগুলো পরিচর্যার দায়িত্বে কাগজে কলমে রয়েছে উপকূলীয় বনবিভাগ।
অপর এক সূত্র জানায়, সৈকত এলাকার এসব ঝাউবাগান এখন বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আওতায় রয়েছে। পুরো ১২০ কিলোমিটার অখন্ড বালিয়াড়ির নিয়ন্ত্রক কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। তাই এটি আজ পর্যটনের শ্রী বর্ধনে একটি অংশ হয়ে উঠেছে এ ঝাউগাছ। দৃশ্যত এসব গাছের এখন দু’টি অভিভাবক হয়ে উঠায় কারো কাছেই সঠিক পরিচর্যা পাচ্ছে না এসব গাছ। অযত্ন অবহেলায় অনেক গাছের গোড়া থেকে দুই-তিন ফুট পর্যন্ত বালি সরে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। তাই হালকা বাতাসেও উপড়ে পড়ছে অসহায় গাছগুলো। অনেক সময় হত্যার শিকারও হচ্ছে ঝাউগাছ।
তাই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচুবনিয়া পাড়া, হাজমপাড়া, মহেশখালিয়াপাড়া, তুলাতলি, মিঠাপানিরছড়া, রাজারছড়া, সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া, মুন্ডাল ডেইল, খুরেরমুখ, কাটাবনিয়া, হাদুরছড়া, নয়াপাড়া, বাহারছড়ার ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাড়া, মাথাভাঙ্গা, দক্ষিন শীলখালী, জাহাজপুরা, বড়ডেইল, শামলাপুর থেকে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, শৈবাল পয়েন্ট, হিমছড়ি, ইনানীসহ হুমকির মুখে পড়েছে সৈকত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের অসংখ্য ঝাউগাছ। 
এদিকে সচেতন নাগরিকেরা মনে করেন, সমুদ্র সৈকতের ঝাউগাছ বিলীন হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকা। তাই শহর রক্ষায় এসব স্থানে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ না দিলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বনবিভাগের লোকজন সৈকতে উপড়ে পড়া ঝাউগাছ উদ্ধার করতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে।
কক্সবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব বলেন, আমরা বন, পাহাড় ও ঝাউগাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছি। বনকর্মীদের চেষ্টায় গাছগুলো এখনো টিকে আছে। কিন্তু স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃতির কাছে (রোয়ানুর কাছে) শনিবার নতি স্বীকার করেছে শতাধিক গাছ। এরপরও আমাদের সিপিজি সদস্যরা গাছগুলো রক্ষার্থে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছে। কিন্তু সৈকতে উপড়ে পড়া কিছু ঝাউগাছ উদ্ধার করতে পারলেও বেশির ভাগ গাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষা করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড় থেকে লোকজন সরানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেই সরেজমিন গিয়ে লোকজনকে সচেতন করেছি।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবির জানান, সৈকতের পরিবেশ রক্ষাকারী ঝাউগাছের প্রাণ রক্ষায় আমাদের পদক্ষেপ থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জোয়ারের পানির ধাক্কায় প্রায় বিলীনের পথে। তবে গাছগুলো রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ তৈরি করা দরকার। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
জেএইচ