কালুখালীর নারিকেলের ছোবড়া যাচ্ছে সারা দেশে


প্রকাশিত: ০৪:৪২ এএম, ২০ জুন ২০১৬

নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি করে জীবন- জীবিকা চলছে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মোহনপুর গ্রামের ৮/১০টি পরিবারের। আগে এ ছোবা ফেলে দেয়া হলেও এখন পরিত্যক্ত ছোবড়া দিয়েই তৈরি হচ্ছে জাজিম, সোফা ও চেয়ারের গদির মত প্রয়োজনীয় সব জিনিস।

জেলা ও অন্যান্য জেলা থেকে ব্যাপারীদের মাধ্যমে কাঁচা ও শুকনো নারিকেল সংগ্রহ করে ছোবড়া ছাড়িয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করে ৪০ ও ৫০ কেজি আকারের বেল্ট বেঁধে রফতানি করা হচ্ছে জেলাসহ কুষ্টিয়া, বগুড়া, রাজশাহী, ঝিনাইদাহ অঞ্চলে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা ক্রেতারা এসেও এগুলো ক্রয় করে নিয়ে যান।

rajbari-coconat

মহাজন ও নারিকেল ছোবড়া ছাড়ানো শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাজন নিজে ও ব্যাপারীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা ও শুকনো নারিকেল সংগ্রহ করেন। ১শ নারিকেল ১৫ থেকে ১৬শ টাকা দরে কিনে আনেন। এরপর শ্রমিকদের দ্বারা গড়ে ১ হাজার নারিকেলের ছোবড়া ছাড়াতে খরচ হয় ৫ থেকে ৬ শ টাকা। ছোবা ছাড়ানো শেষে মেশিনের সাহায্যে সেগুলো মাড়াই করে রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয় জাজিম, সোফাসহ বিভিন্ন জিনিস।

নারিকেলের ছোবড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত গড়ে ৭/৮ জন শ্রমিক সব সময় কাজ করেন। আর এসব শ্রমিকদের মাসিক অথবা চুক্তি ভিত্তিতে পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়।

rajbani-coconat

হারুন ট্রেডার্সের ছোবড়া ছাড়ানো শ্রমিক আলাউদ্দিন জানান, তিনি ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে এ কাজ করছেন। এ কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই আছেন। তবে পুরো বছর এর চাহিদা থাকলে তাদের মত শ্রমিকদের অনেক ভালো হতো।

অপর শ্রমিক তোফাজ্জেল মন্ডল জানান, তিনি ৫ বছরের বেশি সময় ধরে কালুখালী বাজারের অমল কুমার পাল এর অধীনে কাজ করছেন। একদিনে তিনি প্রায় ১৮শ থেকে ২ হাজার নারিকেলের ছোবড়া ছাড়াতে পারেন। এতে তার আয় হয় প্রায় ১২শ টাকা। মূলত তারা ৫০ কেজি ওজনের একেকটি বেল্ট বেঁধে বাজারজাত করেন।

rajbani-coconat

মহাজন অমল কুমার পাল জানান, তিনি ১০ বছর ধরে কালুখালী বাজারের এ ব্যবসা করছেন। তার বাড়িতেই ছোবড়া ছাড়ানোর কাজ করা হয়। এখন দেশে নারিকেল গাছ কমে গেছে ফলে নারিকেলও কম। এ জন্য বেশি দামে নারিকেল কিনতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল সংগ্রহ করে তা থেকে ছোবড়া বের করেন। সেগুলো মাড়াই করে শুকিয়ে বেল্ট বেঁধে দেশের বিভিন্ন জেলাতে রফতানি করেন। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছেও বিক্রি করেন।

কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার হারুন ট্রেডার্সের মালিক মো. হারুন মিয়া জানান, ১৯৯০/৯২ সাল থেকে তার বাবা এ ব্যবসা করে আসছেন। মূলত পৈত্রিক সূত্রেই তিনি এ ব্যবসা করেন। নারিকেলের ছোবড়া সব সময় চলে না। বছরে ৬ মাস এর সিজন থাকে। এ সময় ভালোই চলে এবং ব্যস্ততাও থাকে অনেক।

এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।