ভোটারদের নজর কাড়তে বিএনপি প্রার্থীর ভিন্ন প্রচারণা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে নির্বাচনি আমেজ জমে উঠেছে। এরমধ্যে বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামিমের প্রচারণায় প্রতীকী লাঠিখেলা গ্রামীণ জনপদের ভোটারদের নজর কাড়ছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে হরণী ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী মিছিলে এ আয়োজন দেখে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

এতে লাল জামা ও সবুজ প্যান্ট পরে একদল কৃষক লাঠিখেলায় মেতে উঠেন। এ দৃশ্য দেখে আশপাশের নারী-পুরুষ তা দেখার জন্য ভিড় করেন।

জানা গেছে, জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে ৬ নম্বর (২৭৩) আসনটি গঠিত। এখানে সাত লাখের অধিক মানুষ বসবাস করে। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৮ হাজার ৩৩২ জন ও নারী এক লাখ ৬০ হাজার ৮৫২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৪টি।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামিমের সঙ্গে দলীয় (সদ্য বহিষ্কৃত) দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মো. জুয়েল হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, লাঠিখেলা আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য। রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির এমন সংযোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

হরণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান দোলন বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী। আমরা আশা করি, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

লাঠিখেলায় অংশ নেওয়া মো. আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা পেশায় কৃষক। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের লাঠিখেলা দেখানোর জন্য ডাকা হয়। সাধারণত ১২ থেকে ১৩ জনের একটি দল হয়ে আমরা খেলাটি প্রদর্শন করি। এ অঞ্চলে খেলাটির জনপ্রিয়তা আছে। মানুষ আনন্দ পায়, আমরাও কিছু উপার্জন করতে পারি।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত মাহবুবের রহমান শামীম (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এটিএম নাবী উল্যাহ (লাঙ্গল), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব (তারা), গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (ট্রাক), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক (একতারা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মোহাম্মদ আবুল হোসেন (ছাতা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (হরিণ) ও তানবীর উদ্দিন রাজীব (ফুটবল)।

হাতিয়া সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় এ আসনে ঝুঁকির কথা চিন্তা করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।