মহাপরিচালক
নির্বাচনে সারাদেশে ৩৭ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, দেশের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখেই সারাদেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কথা বলেন বিজিবি মহাপরিচালক।
তিনি আরও বলেন, বিজিবি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা, আচরণবিধি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসটিএক্স অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্ত, পেশাদার ও আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম, বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড, ড্রোন এবং বডি-অর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত থাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা উপস্থিতিজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম