চাহিদা বেড়েছে লতাকস্তুরি গাছের, বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে লতাকস্তুরি গাছের চাহিদা। স্থানীয় বাজারে এই গাছ ও বীজের মূল্য আগের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। গাছও বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে ফলে এ অঞ্চলের অনেক কৃষক লতাকস্তুরি চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক নাম আবেলমোস্কাস মোসচাটাস। দেশে এ উদ্ভিদটি লতাকস্তুরি নামে পরিচিত। লতাকস্তুরি বা কলকস্তুরি বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়ে থাকে। এটি বনে-জঙ্গলে জন্মে। তবে বাংলাদেশে এ গাছের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক চাষি নিয়মিতভাবে লতাকস্তুরি চাষ করে নিজের সংসার পরিচালনা করছেন। অল্প খরচে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় এবং লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে লতাকস্তুরি চাষ ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে জেলার কানসাট গুড়ের হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের পাশে বসে কয়েকজন চাষি লতাকস্তুরির গাছ বিক্রি করছেন। এসব লতা প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মূলত আখচাষিরাই এসব গাছ কিনছেন।

আখচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুড় তৈরির সময় ময়লা ও ফেনা পরিষ্কার করতে লতাকস্তুরির গাছ ব্যবহার করা হয়।

চাহিদা বেড়েছে লতাকস্তুরি গাছের, বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে

আব্বাস বাজার এলাকার লতাকস্তুরি চাষি মজিবুর রহমান জানান, একবিঘা জমিতে লতাকস্তুরি চাষ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকার বিক্রি হবে এমনটায় আশা তার।

আখ চাষি আতিকুর রহমান স্বজন বলেন, গুড় তৈরির সময় আখের রস পরিষ্কার করতে লতাকস্তুরির গাছ ব্যবহার করা হয়। রস জ্বাল দেওয়ার সময় এতে থাকা ময়লা ও ফেনা পরিষ্কার করতে লতাকস্তুরি খুবই কার্যকর হওয়ায় গুড় তৈরিতে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, গুড় তৈরির প্রক্রিয়ায় আখের রস পরিশোধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আখ থেকে রস বের করার পর যখন তা জ্বাল দেওয়া হয়, তখন রসের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ধরনের ময়লা, আঁশ, ধুলাবালি ও ফেনা উপরের দিকে ভেসে ওঠে। এই ময়লা সরিয়ে না ফেললে গুড়ের রং কালচে হয়ে যায় এবং স্বাদ ও মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে আখচাষি ও গুড় প্রস্তুতকারীরা লতাকস্তুরির গাছ ব্যবহার করে আসছেন।

তিনি বলেন, রস জ্বাল দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ লতাকস্তুরির গাছ রসের সঙ্গে ব্যবহার করলে খুব সহজেই ময়লা ও ফেনা জমাট বেঁধে ওপরে উঠে আসে। এরপর তা সরিয়ে ফেললে রস পরিষ্কার হয়ে যায় এবং গুড় হয় উজ্জ্বল রঙের ও উন্নত মানের। প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় লতাকস্তুরি ব্যবহারে গুড়ের স্বাদ বা গুণগত মানের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং এতে গুড় বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও বাজারজাতকরণের উপযোগী হয়।

সোহান মাহমুদ/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।