এখনও থমথমে শোলাকিয়া


প্রকাশিত: ০৯:১৩ এএম, ১০ জুলাই ২০১৬

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের দিন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতঙ্ক কাটছে না এলাকাবাসীর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরও হচ্ছে না কেউ।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটায় আতঙ্কে প্রথম দিন শিক্ষার্থী না আসায় স্কুল ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঈদের ছুটির পর চরশোলাকিয়া এলাকার গৃহবধূ রিনা দাস সকালে তার দুই শিশু ছেলে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। শোলাকিয়া স্কুলের কাছে ঈদের দিনে হামলার স্থানটিতে এসে ভয়ে দুই শিশু মাকে জড়িয়ে ধরে। মায়ের কাছে তাদের আবদার স্কুলে রেখে যেন মা কোনো অবস্থাতেই চলে না যান। মায়ের চোখে মুখেও অজানা আতঙ্ক। আবার কখন কি হয়ে যায়?

তার মতো আতঙ্কে এখন শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দারা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। কেউ কেউ আছেন, একেবারেই কাছে থেকে দেখেছেন সেদিনের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। ভয় কাটছে না তাদেরও।

ঈদের দিন সকালে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের আঙিনায় পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে। ওই স্থানটি এখনও ঘিরে রাখা হয়েছে। মোতায়েন আছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাই স্কুল খোলার পর আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেনি। কিছু শিক্ষার্থী সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তাদের মা-বাবা। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী কম থাকায় স্কুল ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

kishoreganj

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

এদিকে ঘটনার তিন দিন পরও এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়নি।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আজই মামলা রুজু করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগার অদূরে চরশোলাকিয়া এলাকার পুলিশ সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এতে পুলিশের দুই সদস্য, এক এলাকাবাসী ও এক সন্ত্রাসীসহ চারজন নিহত হন। ঘটনার পর দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।