নেত্রকোনা
মশায় অতিষ্ঠ পৌরবাসী, ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সুফল নেই
শীতের মৌসুম শেষ হতে না হতেই নেত্রকোনা পৌর শহরে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা। শুধু সন্ধ্যা বা রাতে নয়, দিনের বেলাও মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে শহরবাসীকে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও অধিকাংশ নালার মুখ বন্ধ থাকায় সহজে পানি চলাচল করতে পারছে না। আটকে পড়া পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা। মশা নিধনে পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা হচ্ছে। পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বিষয়টি ঠিক নয়। এখন মশার প্রজনন মৌসুম। এ সময় মশার উপদ্রব বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে পৌরসভা। নালা-নর্দমা, বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। এখন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন দুই জন কর্মচারী দিয়ে মশা নিধনে কীটনাশক, ফগার ও স্প্রে ছিটানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে প্রায় আট লাখ টাকা বাজেট রাখা হয়েছে।

পৌর কার্যালয়, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ২১ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নেত্রকোনা পৌরসভাটি ১৮৮৭ সালে স্থাপিত হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বসবাস করেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, মশার উপদ্রবে তাঁরা রীতিমতো অতিষ্ঠ। দিনের বেলাতেও বাসা-বাড়িতে কয়েল বা মশারি টানিয়ে থাকতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখেননি লোকজন। নালায় কোনো কীটনাশক দেওয়া হয়নি। ফগার মেশিনের শব্দও কেউ পাননি।
সাকুয়া এলাকার শামিম আহমেদ বলেন, মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর আর থাকতে পারলাম না। শত শত মশা ভিড় করেছে।কতক্ষণ মশা তাড়িয়ে পারা যায়? কিছুক্ষণের মধ্যেই কামড়ে পা ফুলিয়ে ফেলেছে। বাসাতেও মশার কামড়ে থাকা দায়।
সাতপাই এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, শহরের অধিকাংশ নালা অপরিষ্কার থাকায় মশা জন্ম নিচ্ছে। আনাচে-কানাচে ঝোপঝাড় ও ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকায় সেখান থেকে মশা হচ্ছে। মশা নিধনে পৌরসভা কোনো রকম তেল বা কীটনাশক ছিটায়নি। ফগার মেশিনের কোনো শব্দও পাওয়া যায়নি।
পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জহিরুল হক খান বলেন, মশার বংশবৃদ্ধি রোধে শহরের নালা-নর্দমা, বাসা-বাড়ির ময়লা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ টনের মতো বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। শনিবার থেকে প্রতিদিন মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর কাজ অব্যাহত থাকবে।
এইচ এম কামাল/কেএইচকে/এমএস