দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না হাতিটি
স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বহীন উদ্যোগ ও সময়পোযোগি ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে বগুড়ার দুর্গম চরে আটকে থাকা ভারতীয় বন্য হাতিটি এখন মরণাপন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনে হাতির খোঁজ নিতে সরকারি-বেসরকারি কোনো কর্তৃপক্ষই এগিয়ে আসেনি। রোববার বিকেলে বগুড়ার সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের হরিরামপুর চরে দেখা গেছে হাতিটি।
খাবারের খোঁজে এক চর থেকে অন্য চরে ছুটে বেড়াচ্ছে হাতিটি।
বগুড়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, একটি বন্যহাতি দুর্গম স্থান থেকে উদ্ধার করার মতো প্রয়োজনীয় জনবল ও সাপোর্ট তাদের নেই। এ কারণে হাতিটির ব্যাপারে কিছুই করা যাচ্ছে না।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক আশরাফ আলী বলেন, তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে নদীতে ভেসে আসা এই হাতির খবর জেনেছেন। স্থানীয় ইউএনওকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
সারিয়াকান্দির ইউএনও মনিরুজ্জামান বলেন, আমি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে। একই ধরনের কথা বলেছেন সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের ওসি ওহেদুজ্জামান। তাদের ভাষ্য, আমাদের করার কিছুই নেই।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় হাতিটি উজান থেকে স্রোতের তোড়ে ভেসে এসে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বলেশ্বর চরে আটকা পড়ে। সেখানে অল্পসংখ্যক জনবসতি রয়েছে। রাতে ও সকালে ক্ষুধার্ত হাটিতি ঘরবাড়ি ও জমির ব্যাপক ক্ষতি করে। এ কারণে শুক্রবার বলেশ্বর চরের লোকজন হাতিটি ধাওয়া করে পানিতে নামিয়ে দেয়। এরপর সেটি ভেসে পাশের কাশিরবাড়ী চরে আশ্রয় নেয়। এই চরে জনবসতি একেবারে কম থাকার কারণে খাবারের অভাব রয়েছে। খাবার না পেয়ে আরো হিংস্র হয়ে ওঠে আশপাশের ঝাউ ও কাশবনে আশ্রয় নেয় হাতিটি।
রোববার সকালে হাতিটি দেখা যায় কাশিরবাড়ীর পাশের হরিরামপুর চরে। সেখানে ঝাউ গাছের মধ্যে লুকিয়ে থাকা হাতিটি দেখার জন্য স্থানীয় লোকজন গেলেই তেড়ে আসে।
বলেশ্বর চরের বাসিন্দা আমিনুল ও ফরহাদ জানান, হাতিটি যেখানে অবস্থান করছে, সেখানে অল্প পানি রয়েছে। এর পাশে নদীর ভেতরে একটি ছোট খাল রয়েছে। সেটি পার হলেই কাজলা ইউনিয়ন। কাজলা ইউনিয়ন ঘনবসতিপূর্ণ একটি জায়গা। কোনোভাবে হাতিটি যদি কাজলা ইউনিয়নের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলে জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
মনিরুল ইসলাম নামের একজন জানান, চরের পানি আর কাদায় আটকা পড়ে থাকা ক্ষুধার্ত এই হাতিটির খাদ্যের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত তিনদিনেও করেনি। তবে চরের বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বড় বড় কলাগাছ কেটে নৌকা নিয়ে চরে ফেলে রেখে আসছে। রোববার সকাল থেকেই চরের বাসিন্দারা হাতির খাবারের জন্য কমপক্ষে ১৫টি কলাগাছ হরিরামপুর চরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখেছে।
তারা জানান, চরের অনেক দূরের কাশবনের মধ্যে হাতিটির পিঠ দেখা গেছে রোববার সকালে। তাদের ধারণা, ক্ষুধার্ত হাতিটি এখন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। এ কারণে হাতিটির নড়াচড়াও আর চোখে পড়ছে না।
কাশিমপুর খেয়াঘাটের মাঝি হযরত আলী জানান, রোববার সকালে তার নৌকায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক হরিরামপুর চরে যায়। সেখানে চরের কাশবনে হাতিটির পিঠ দেখা দেখা গেছে।
তিনি জানান, কেউ হাতিটির কাছে যাওয়ারও সাহস পাচ্ছে না।
লিমন বাসার/এমএএস/এবিএস/এমএফ