মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কমছে ডাকঘরের জনপ্রিয়তা


প্রকাশিত: ০৭:০০ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৬

দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চালু করা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধার কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডাকঘরের গ্রাহক দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসের কারণে ডাকঘরের মাধ্যমে সাধারণ চিঠিপত্রেরও আদান-প্রদান কমে গেছে।

এখন শুধু সরকারি কিছু চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয় রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে ডাকঘরের চালুকৃত আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা খুব একটা কাছে টানতে পারছে না সাধারণ গ্রাহকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার আদলে সারাদেশের ডাকঘরগুলোতে ‘ক্যাশ কার্ড’ ও ‘ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার’ নামে দুটি আধুনিক সেবা চালু করা হয়েছে। এ দুই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজেই যে কোনো ডাকঘর থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বল্প খরচে নগদ টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন।

Post-Office

এছাড়াও মাত্র ৪৫ টাকার বিনিময়ে পাওয়া ক্যাশ কার্ডে কোনো গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রাখতে পারবেন। জমানো এ টাকা গ্রাহকরা দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ডাকঘরের এই আধুনিক সেবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খুব একটা সাড়া ফেলতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে ‘বিকাশ’ কিংবা ‘এম ক্যাশ’র মতো বেসরকারি মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রধান ডাকঘরের বেশিরভাগ কার্যক্রমই কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ নানা সমস্যার কারণে এখনো পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে ওঠেনি এ ডাকঘরটি। প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রধান ডাকঘর থেকে প্রায় ৫০০ জন গ্রাহক সেবা গ্রহণ করে থাকেন। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। কারণ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে মুনাফার হার ওঠা-নামা করলেও ডাকঘরের মুনাফা আগের মতোই বহাল রয়েছে।

সরেজমিনে রোববার সকালে ডাকঘরের সেবার মান নিয়ে কথা হয় কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে। তারা জাগো নিউজকে জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ডাকঘরের প্রতি তাদের আস্থা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ডাকঘরে বিভিন্ন সময় সেবা নিতে এসে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। লোকবল কম থাকায় ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় সেবা গ্রহণের জন্য। তারা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মতো ডাকঘরে আধুনিক সব সেবা সংযোজনের দাবি জানান।

Post-Office

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের মাস্টার মীর আবদুল কুদ্দুস জাগো নিউজকে জানান, গ্রাহকদের ঠিকমতো সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক কম জনবল দিয়ে চলছে ডাকঘরটি। তাই আমরা অনেকসময় গ্রাহকদের তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারি না। আমাদের ডাকঘরের বেশিরভাগ কাজ এখন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতেই পরিচালত হয়ে আসছে, তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেবা প্রদান কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়।

তিনি আরো জানান, নতুন চালুকৃত ক্যাশ কার্ড ও ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার সেবা অনেক গ্রাহক গ্রহণ করছেন। প্রতিদিন ক্যাশ কার্ডের নতুন নতুন গ্রাহক তৈরি হচ্ছে। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা ও কুরিয়ার সার্ভিসের কারণে ডাকঘরের গ্রাহক সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

Post-Office

এসএস/আরআইপি/এমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।