সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮ দিন ধরে বন্ধ পাথর আমদানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:১৩ পিএম, ০৯ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (নির্ধারিত সরকারি মূল্য) বৃদ্ধির প্রতিবাদে টানা ৮ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। গত ২ মে থেকে ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় পুরো বন্দরে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কাজ না থাকায় বেকার সময় পার করছেন শ্রমিকরা। নেই আগের মতো কোলাহল।

শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি টন পাথর তারা সর্বোচ্চ ১৩ ডলারে আমদানি করেন। তবে এসব পাথরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নিম্নমানের হওয়ায় তা ফেলে দিতে হয়। এতে লাভের পরিমাণ কমে যায়। এর মধ্যেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হঠাৎ পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু আরও ২ ডলার বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করায় ক্ষোভে আমদানি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

আরিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জুয়েল বলেন, ‘১৩ ডলারের অ্যাসেসমেন্ট করেও আমাদের লোকসান হচ্ছে। হঠাৎ ১৫ ডলারে পাথর আমদানি করা সম্ভব নয়। ১৫ ডলারে পাথার আমদানি করলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। বর্ধিত ভ্যালু যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হবে না ততক্ষণ তারা পাথর আমদানি করবো না।’

সাঈদি ইসলাম নামের আরও এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৩ ডলারের এলসি করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে ১৫ ডলারের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু চায় ভারত। অর্থাৎ তারা দুই ডলার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বাড়াতে চায়। এতে আমাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই বাড়তি মূল্য মেনে নেওয়া আমাদের জন্য সম্ভব নয়। ফলে বাধ্য হয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রাখতে হয়েছে।’

সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, ‘সাধারণ সময়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিনশ পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বর্তমানে সেখানে আসছে মাত্র ২০ থেকে ৩০টি পণ্যবাহী ট্রাক। এতে একদিকে যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।’

সোহান মাহমুদ/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।