প্রতিমন্ত্রী অমিত

ভবদহ সমস্যার সমাধান বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ১৬ মে ২০২৬

যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ভবদহ সমস্যার সমাধান বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে যশোর শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) সহযোগিতায় এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভবদহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকার পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বিষয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবদহ সমস্যার সমাধান টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট)’র মধ্যেই নিহিত রয়েছে। তবে টিআরএম বাস্তবায়নে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের আস্থায় আনতে পারলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাজরিন আক্তার খান। সমীক্ষা প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন আইডব্লিউএমের সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান।

কর্মশালায় জানানো হয়, ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার নদীগুলোতে অতিরিক্ত পলি জমা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েক যুগ ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে টিআরএম কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে কিছু সুফল মিললেও নানা জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।

এছাড়া ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরের ওপর ২০টি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন করা হলেও ২০২৪ সালের অতিবর্ষণের বন্যা প্রমাণ করেছে, এটি স্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে আইডব্লিউএমকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আইডব্লিউএমের সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান জানান, যশোর জেলার মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় পরিচালিত এ সমীক্ষায় প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পৃথক সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল খনন, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন, পাইলট চ্যানেল খনন, নদীর সঙ্গে বিল সংযুক্ত করে পুনরায় টিআরএম চালু, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্ত করা এবং ভবদহ রেগুলেটরের পরিবর্তে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা। এছাড়া বিল ডাকাতিয়া এলাকার রেগুলেটর মেরামত ও নতুন রেগুলেটর স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও নদীতে পলি জমার সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।

মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রাছুল, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম আহমেদ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন অংশীজন ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

মিলন রহমান/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।