দিনে ৮০০ টাকার খাবার খাওয়া ‘কালু’কে নিয়ে বিপাকে খামারি
পরম যত্নে পালিত গরুটিকে এবারের ঈদ-উল-আযহার আগেই বিক্রি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন মালিক। গরুটিকে দেখতে ও কিনতে অনেক ক্রেতা বাড়িতে ভিড় করলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এখনো বিক্রি হয়নি।
শুক্রবার (১৫ মে) সদর উপজেলার কছুন্দি ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামের খামারি মমিন মুন্সি সন্তানের মতো লালনপালন করেছেন গরুটিকে। আদর করে নাম দিয়েছেন ‘কালু’। তবে গরুটিকে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে তার চিন্তা ততই বেড়ে যাচ্ছে।
খামারি মমিন মুন্সি বলেন, গত ৩ বছর ধরে কালুকে সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গরুটি বিক্রি করবো। গরুটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজন আসছেন, দামও দিচ্ছেন। তবে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়নি গরুটি। ৫ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট লম্বা এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ২০ মণ। গরুটি দেখতে কালো বর্ণের হওয়ার আদর করে ওর নাম দিয়েছি ‘কালু’।
তিনি বলেন, কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি, ভুট্টা, ডালের গুঁড়া, খড়, চিটাগুড় খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে গরুটি লালন-পালন করেছি। দেশের বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা বা চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ৩ বছর ধরে ষাঁড়টি লালন পালন করতে আমার প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ষাঁড়টির পেছনে আমার ৮০০ টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজার মূল্যে গরুটি বিক্রি করবো। বাজারে নেওয়া সম্ভব না, তাই গরুটিকে বাড়িতে রেখেই বিক্রি করতে হবে।
বাগবাড়িয়া গ্রামের রাজু আহম্মেদ বলেন, গরুটি অনেক বড়। মমিন মন্সি ও তার পরিবারের লোকজন অনেক কষ্টে গরুটি লালন-পালন করেছেন। তিনি যদি এই গরুটি এখন ভালো দামে বিক্রি করতে না পারেন তাহলে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস বলেন, খামারিদের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমরা মমিন মুন্সির খামারটি পরিদর্শন করেছি। দেশীয় খাবার ব্যবহার করে গরুটি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে লালন-পালন করা হয়েছে। এই খামারে কালো রঙের একটি গরু আছে যার ওজন ২০ মণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এফএ/জেআইএম