অনতিবিলম্বে ডুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি, ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ও শাখা ছাত্রদল। অনতিবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এতে বন্ধ থাকে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। পরে দুপুর ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল। এছাড়া রোববার (১৭ মে) সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে তার দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন।
১৪ মে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর ওইদিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।
সোমবার সকালে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এসময় কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এতে গেটের বাইরে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ভিড় দেখা গেছে। ব্লকেড কর্মসূচির কারণে বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।
ক্যাম্পাসের ভেতরে শহীদ মিনারের পাশে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা বিগত এক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে এবং স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো রূপ ব্যাঘাত যাতে না ঘটে, সেদিকেও সতর্কতা অবলম্বন করেছি। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা চলমান ছিল। একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরবো এবং তা আদায়ের চেষ্টা করবো। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকাল থেকে আমাদের ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। যাদের পরীক্ষা ছিল তারা পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সকালে ডুয়েট ছাত্রদল ও বাইরের ভাড়াটিয়া এসে তারা গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। এসময় ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহতের চেষ্টা করলে তাদের ওপর বাইরে থেকে হামলা করা হয়। এতে ১৮ শিক্ষার্থী আহত হন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো অনতিবিলম্বে উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করতে হবে; ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে এবং শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের ওপর সংঘটিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে একটি ভবনের চতুর্থ তলায় সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল। এসময় সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির বলেন, বর্তমান উপাচার্য আসার এক ঘণ্টা আগে শিবির এবং ছাত্রশক্তির কিছু ছেলে এত পরিমাণে উগ্র ছিলেন যে, তারা শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এতে প্রমাণ হয়, তারা মনে কতটা সন্ত্রাস ধারণ করেন। ডুয়েটসহ অন্যান্য ক্যাম্পাসে শিবির মব ভায়োলেন্স এবং মব সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে। আমরা অচিরেই এই মব ভায়োলেন্স, মব সন্ত্রাস কালচারের সমাপ্তি দেখতে পাবো। এই ডুয়েট থেকেই এর সূচনা হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ডুয়েটের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ অবস্থায় রোববার শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গেটের বাইরে থাকা পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন ও সাধারণ ছাত্রসহ ১৪-১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এসআর/এএসএম