জামিন না পেয়ে আদালত থেকে পালালেন উপজেলা চেয়ারম্যান
আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় বগুড়া জেলা জজ আদালত থেকে পুলিশ ও আইনজীবীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০ সহযোগীসহ পালিয়ে গেছেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আদালত চত্বরে তোলপাড় শুরু হয়।
মোর্শেদ মিল্টনের নিযুক্ত আইনজীবী ও সাবেক পিপি অ্যাড. সাইফুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভণ্ডুল করতে গাবতলী মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বুধবার বগুড়ার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে হাজিরা দিতে এসে এ ঘটনা ঘটে।
আদালতের একাধিক আইনজীবী জানান, গাবতলী মডেল থানায় হামলার মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ও গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টনসহ ১০ জন এতদিন হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশে বুধবার বগুড়ার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আ.ম আবু সাইদ এর আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, বুধবার সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন মোর্শেদ মিল্টনসহ অভিযুক্ত আসামিরা। বিকেলের দিকে মামলাটির নথি আদালতে উপস্থাপন করার সময় অন্যরা কাঠগড়ায় উঠলেও মোর্শেদ মিল্টন কৌশলে এজলাসের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকেন।
মামলার শুনানির সময় আসামির সংখ্যা গণনাকালে মোর্শেদ মিল্টনের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে আদালতের। এরপর এই দশজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানার জারির পর আদালত চত্বর থেকে সটকে পড়েন মোর্শেদ মিল্টন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোর্শেদ মিল্টন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতে হাজিরা দেন। বিকেলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি নথি উপস্থাপনের অপেক্ষায় এজলাসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, মামলার শুনানি হলেও বারান্দায় কেউ আমাকে খবর দেয়নি। আমার অনুপস্থিতিতে আদালত পরোয়ানা জারি করায় গ্রেফতার এড়াতে দ্রুত আদালত চত্বর ত্যাগ করেছি।
বগুড়া জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আব্দুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এআরএ/আরআইপি