দৌলতদিয়ায় দুটি ফেরিঘাট বন্ধ : দীর্ঘ যানজট
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে চারটি ফেরিঘাটের (২ নং ও ৪ নং) দুটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। এমনকি এ নৌরুটের ১৮টি ফেরির মধ্যে পাঁচটি বিকল ও স্রোতের প্রতিকূলে চলতে গিয়ে পারাপারে সময় বেশি নিচ্ছে।
ফেরি ও ঘাটের সংকট দেখা দেওয়ায় দৌলতদিয়া জিরোপয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ ফিডমিল এলাকা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেলে দৌলতদিয়া জিরোপয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ ফিডমিল এলাকা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে সড়কের এক পাশ দিয়ে পরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাস, ছোট গাড়ি আগে পারাপারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাস এবং তিন থেকে পাঁচদিন ধরে পণ্যবাহী ট্রাকও সিরিয়ালে থাকতে দেখা গেছে। যানজটে আটকা পড়ে থাকা তীব্র দাবদাহে পরিবহনের শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া কয়েকদিনের আটকা থাকা পণ্যবাহী ট্রাকচালক ও হেলপাররা পড়েছেন বিপাকে। 
চালক ও যাত্রীরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন বলছে নদীতে স্রোত পারাপারে সময় বেশি লাগছে। তাছাড়া ফেরিঘাট সমস্যা ও ফেরি কম থাকায় এ অবস্থা। এদিকে ২ নং ও ৪ নং ঘাট পুনরায় সচল করার চেষ্টা করছে বিআইডব্লিউটিসি।
ঘাট এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা থেকে যানবাহন ওঠানামা বন্ধ হয়ে গেছে ৪ নং ফেরি ঘাটটিতে এবং বৃহস্পতিবার রাত ৭টা থেকে ওঠানামা বন্ধ হয় ২ নং ফেরি ঘাটটিরও। ৪ নং ফেরিঘাট সংলগ্ন সড়কের প্রায় সবটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই কারণে ২ নং ফেরিঘাটের যানবাহন ওঠানামা বন্ধ হয়েছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচলে অনেক সময় বেশি লাগছে। স্রোতের কারণে ফেরিঘাট এলাকায় নদীর পাড় ভাঙা অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকাগামী এক পরিবহনের চালক বলেন, প্রায় ৩/৪ ঘণ্টা ধরে ফেরিঘাটে আটকা আছি। এখন পর্যন্ত কোনো ফেরি পাইনি।
অপর এক ট্রাকচালক বলেন, আজ ছয়দিন হলো নদী পারের অপেক্ষায় আছি। তিনদিন রাস্তায়, দুদিন দৌলতদিয়া টার্মিনালে ছিলাম আর আজ দুপুরের পর ঘাট এলাকায় এসেছি। জানি না কখন ফেরি পাব।
যাত্রী রবিউল ইসলাম জানান, সকাল থেকে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আছি। শুনছি ঘাটে ফেরি নেই।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের ১৮টি ফেরির মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, কাবেরী ও বনলতা নামের চারটি ফেরির ইঞ্জিন দুর্বল হয়ে পড়ায় স্রোতের বিপরীতে চলতে পারছে না এবং গত চার মাস ধরে ইউটিলিটি ফেরি মাধবীলতা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতিতে। 
এ পাঁচটি ফেরি চলাচল বন্ধ এবং নদীভাঙনের কারণে দুটি ফেরিঘাট বন্ধ ও স্রোতের কারণে পারাপারে সময় বেশি লাগছে। সব মিলিয়ে দৌলতদিয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ম্যানেজার (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন দৌলতদিয়া দিয়ে নদী পারাপার হয়। কিন্তু নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র স্রোত থাকায় পারাপারে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের ২ ও ৪ নং ঘাটটি ভাঙনের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ। তবে ৩ নং ঘাটের দুটি পকেটসহ ১ নং ঘাট চালু রয়েছে। ঘাট দুটি সচলের চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে ২ ও ৪ নং ফেরিঘাট নদীতে চলে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ঘাট এলাকার পাশের গ্রামসহ বাইপাস সড়কটিও বিলীন হয়ে যাবে। নৌ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ স্থানের ঘাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেবেন।
তিনি আরো জানান, আগামী মাসের ৪ তারিখ নৌমন্ত্রী আসবেন। তাকে আমরা জনগণের পক্ষ থেকে বোঝাবো এখানে যেহেতু বাইপাস সড়ক আছে, তাই এই ঘাটটি স্থায়ীভাবে এখানেই মেরামত করে রাখা হোক ।
রুবেলুর রহমান/এসএস/পিআর