সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত


প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০২ আগস্ট ২০১৬

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত রয়েছে।
 
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি কমে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি কমলেও অভ্যন্তরীন নদীগুলোর পানি বাড়ছে। করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, ধলাই, চাকলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাবার কারণে এখনো নদী এলাকার গ্রামগুলো বন্যায় ডুবে রয়েছে।
 
সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলের ৩৩টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ কয়েকদিন ধরে বন্যা কবলিত হবার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ এখন কষ্টে জীবন যাপন করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে বন্যা কবলিতরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
 
এদিকে শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে যমুনার পানি প্রবেশ করায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর, বেলকুচি ও এনায়েতপুরের হাজার হাজার তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁতী ও শ্রমিকদের মানবেতর দিন যাপন করছে।

Sirajganj

এ বিষয়ে রূপবাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার জানান, ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে ১৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, উপজেলার সোনাতনী, কৈজুরি, গালা, রূপবাটি, জালালপুর, বেলতৈল ইউনিয়নে ১৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২০ হাজার টাকাসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য আরো দুই লাখ নগদ টাকা ও ২০ মেট্রিক টন চালের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ওয়ালি উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ৩৩টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের কমপক্ষে সাড়ে ১৫ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার পাঁচটি উপজেলার বন্যা কবলিতদের মাঝে ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাদল ভৌমিক/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।