খানসামার ওসির বিরুদ্ধে মামলা নিতে আদালতের নির্দেশ


প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০১৬

ক্রস ফায়ার, ধর্ষণ-অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত একজন কানাডিয়ান নাগরিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক বিবাহ রেজিস্ট্রি ভলিয়ম বইয়ে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগে দিনাজপুরের খানসামা থানার ওসি কৃষ্ণ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

আদালত ওসির বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিতে সরকারের কাছে পূর্ব অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় আদেশের কপি পাঠিয়েছে।

বুধবার বিকেলে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২ (খানসামা)-এ এই মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান নাগরিক তারিক আব্দুল্লাহ।

আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন খানসামা থানা পুলিশের ওসি পাবলিক সার্ভেন্ট হওয়ায় ফৌ:কা:বি: ১৯৭ ধারার বিধান মোতাবেক তার বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিতে সরকারের কাছে পূর্ব অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় আদেশের কপি পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে ওসিসহ ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলার বাদী তারিক আব্দুল্লাহ ২০০৪ সাল থেকে কানাডার নাগরিক। কয়েকমাস আগে তিনি দিনাজপুরে আসলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে তার নিকটআত্মীয় খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকার আব্দুল জব্বার মিয়া তার স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ে রাহানা জান্নাতের সঙ্গে কানাডিয়ান নাগরিক তারিক আব্দুল্লাহর বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে তিনি রাজী না হওয়ায় গত ২৮ জুলাই আব্দুল জব্বার মিয়া, এনামুল হক, রাহানা জান্নাত, এহছান্নুল্লাহ, একরামুল, মাজেদা বেগমসহ কয়েকজন জোরপূর্বক বিয়ের জন্য তারিক আব্দুল্লাহকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আটকেয়ে রাখে।

পরে বিষয়টি মোবাইলে খানসামা থানা পুলিশের ওসি কৃষ্ণ কুমার সরকারকে জানানো হলে পুলিশ পাঠিয়ে কানাডিয়ান নাগরিকসহ অন্যদেরকে থানায় নিয়ে আসে। পরে সেখানে এক বৈঠক হয় এবং বৈঠকে ক্রস ফায়ার, ধর্ষণ মামলা, অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে ওসি অন্যদের সহযোগিতায় জোরপূর্বক বিবাহ রেজিস্ট্রির ভলিয়ম বইয়ে স্বাক্ষর নেয়।

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, তাকে উদ্ধারের জন্য ওসি ২০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার বাদী তারিক আব্দুল্লাহ খানসামা থানা পুলিশের ওসি কৃষ্ণ কুমার সরকারসহ আব্দুল জব্বার মিয়া, এনামুল হক, রাহানা জান্নাত, এহছান্নুল্লাহ, একরামুল, মাজেদা বেগম, মতিয়ার রহমান বুলবুল, আব্দুল কাদের মিয়া ও কাজী সাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানান, যেহেতু ওসি কৃষ্ণ কুমার সরকার একজন পাবলিক সার্ভেন্ট। তাই কা:বি: ১৯৭ ধারার বিধান মোতাবেক তার বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিতে সরকারের কাছে পূর্ব অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় আদেশের কপি পাঠিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ওসিসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ইনিকোয়ারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এমদাদুল হক মিলন/ এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।