কুমিল্লায় স্ত্রী-ছেলের ঘাতক রাঙামাটি থেকে গ্রেফতার


প্রকাশিত: ০৮:০৯ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৬

কুমিল্লায় স্ত্রী-ছেলের ঘাতক নাজমুল হাসানকে রাঙামাটি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে সে স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।

বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এসব তথ্য জানান। এর আগে গত রোববার রাতে কুমিল্লা মহানগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে নাসিমা আক্তার ও তার ছেলে নাফিজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক নাজমুল জানায়, ওই বাসায় ১২ আগস্ট রাতে স্ত্রী নাসিমাকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। এসময় শিশুসন্তান নাফিজ চিৎকার শুরু করলে তাকেও গলাটিপে হত্যার পর মরদেহ দুটি ওই ভবনের পাশের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. সালাহ উদ্দিন ও উপপরিদর্শক (এসআই) মজনু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চাঞ্চল্যকর মা-ছেলে এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নাজমুল হাসানকে রাঙামাটির লংগদু থানাধীন মাইনামো লঞ্চঘাট থেকে মঙ্গলবার আটক করে রাতে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার বর্ণনা দেয়। ঘাতক নাজমুল ৩টি বিয়ে করেছে, নাসিমা তার ৩য় স্ত্রী। নাসিমারও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। হত্যাকাণ্ডের দুইদিন আগে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্ত্রী নাসিমা নাজমুলকে চড় মারে। এ ক্ষোভে সে তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

বৃহস্পতিবার হাউজিং এস্টেটের মিম পেক্স এগ্রো ক্যামিকেলসে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি নেয় নাজমুল। শুক্রবার রাতে স্ত্রী নাসিমা ও ছেলে নাফিসকে ওই বাড়িতে নিয়ে আসে সে। পরে রাতে তাদের হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে রেখে পালিয়ে যায়।

এদিকে সোমবার নাজমুলকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন নাসিমার বাবা খলিলুর রহমান। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়।

কামাল উদ্দিন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।