ছাতা ও ব্যাগ নিয়ে শোলাকিয়ায় প্রবেশ নিষেধ


প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬

এবারো দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮৯তম ঈদুল আজহার জামাত। সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে।

জামাতে ইমামতি করবেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ। ঈদ জামাতকে ঘিরে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি।

এদিকে, গত ঈদুল ফিতরে শোলাকিয়া মাঠের কাছে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ঈদের দিন মাঠ ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে।

ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব-পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য ছাড়াও থাকছে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ঈদের দিন র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা বাহিনী। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা।

kishoreganj

তবে এবার অন্য সকল প্রবেশ পথ বন্ধ রেখে মাঠের সামনের দিকে প্রধান গেট দিয়ে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। এ সময় তারা ছাতা ও ব্যাগ কোনো কিছু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। মাঠের চারপাশে থাকবে বিজিবি সদস্যও।

শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, গত ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে জঙ্গি হামলা হয়। যদিও আমরা সেটি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার সার্বিক নিরাপত্তা সাজানো হয়েছে। তিনি জানান, অন্তত ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

জানা গেছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে হয়বতনগর জমিদার বাড়ির লোকজন শোলাকিয়া ঈদগাহ প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ইদগাহের জন্য জমি ওয়াকফ করেন ঈশা খাঁর বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান। তারও দু’শ বছর আগে থেকে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

প্রায় ৭ একর জমির উপর অবস্থিত শোলাকিয়া মাঠের পশ্চিম সীমারেখা উত্তর-দক্ষিণে ৩৩৫ ফুট এবং পূর্ব সীমারেখা উত্তর দক্ষিণে ৩৪১ ফুট, উত্তর সীমারেখা পূর্ব পশ্চিমে ৭৮৮ ফুট এবং দক্ষিণ সীমারেখা পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৪ ফুট।

জনশ্রুতি আছে, কোনো এক ঈদের জামাতে শোলাকিয়ায় এক লাখ ২৫ হাজার বা  সোয়া লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’।  যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত। এ মাঠে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির ঢল নামে। দিন দিন এখানে বাড়ছে দেশ-বিদেশের মুসল্লির সংখ্যা।

এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।