রামগঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণের নামে বাণিজ্য!
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতা ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা সিন্ডিকেট করে বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অন্তত ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে প্রতারিত লোকজন।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলছেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি শুনেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ইছাপুর, দক্ষিণ শ্রীরামপুর, নারায়নপুর, উত্তর শ্রীরামপুর, নয়নপুর, নুনিয়াপাড়া, শিবপুর ও সান্দানপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন এম এ আউয়ালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ওই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহ করার। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে মতলববাজদের সিন্ডিকেট ওই গ্রামগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে কমপক্ষে আটশ গ্রাহকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।
বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদ উল্যাহ, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ সবুজ, মো. লিটন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ খাঁন, লোকমান হোসেন লোকা, যুবলীগ নেতা নূর হোসেন পাল ও এমরান হোসেন, মিলন পাটোয়ারী, সাইফুল ও রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পিওসি আনোয়ার হোসেন মিঝি বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহের নামে তাদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি থেকে সাত হাজার টাকা করে হাতিয়ে পকেট ভারি করেছেন।
দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম চকিদার বাড়ি থেকে ৭, বশির চেরাং বাড়িতে ৬, রায় ছাড়া বাড়ি ৩, লোচার বাড়ি ২, ছাড়া বাড়ি ৮, মনু পাটোয়ারী বাড়ি চারটিসহ ৩০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ৩৮টি সংযোগের জন্য লোকজনের কাছ থেকে এক লাখ ৯ হাজার টাকা দেন। মুনসুর আলী বেপারী বাড়িতে ১৬ পরিবারের জন্য ৮৮ হাজার, দৌলুত বাড়ি থেকে ১২ পরিবারের ৬০ হাজার টাকা নেয়া হয়।
দক্ষিণ শ্রীরামপুর এলাকার ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে টাকা উত্তোলন করেছি। কিছু খরচাপাতি সব জায়গাতেই লাগে। বিদ্যুৎ অফিসেও কিছু দিতে হয়েছে। নিজের জন্য কিছু নেয়নি।
নয়নপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, সরকার প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা থাকলেও ইছাপুরে তা হয়নি। এজন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা করে নিয়েছি। এই টাকা আমি একা ভোগ করিনি। লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত অফিসের লোকজনকে খরচ দিতে হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পিওসি আনোয়ার হোসেন মিঝি জানান, বিদ্যুতের জন্য টাকা উত্তোলন বা ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে তিনি অবগত নয়। তবে, এ ঘটনার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জিএম অফিসের লোকজন জড়িত থাকতে পারে।
ইছাপুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্যা বলেন, ইউনিনের অধিকাংশ এলাকায়ই বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ আনার জন্য এমপি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোঁজ খবর নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন এম এ আউয়াল বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে ওই গ্রামগুলো জরিপ হয়েছে, চলতি অর্থ-বছরেই বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাজল কায়েস/এআরএ/পিআর