কটিয়াদীতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঢোলের হাট


প্রকাশিত: ০৬:৩৯ এএম, ০৭ অক্টোবর ২০১৬

পুরো হাট জুড়ে চোখে পড়বে বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা। সবখানে উৎসবের রং। যন্ত্রীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে-গেয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। এটি দেশের একমাত্র বাদ্যযন্ত্রের হাট। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এ ঢোলের হাট।

তবে মজার বিষয় হচ্ছে, এ হাটে আসলে কোনো বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হয়না। বিক্রি হন যন্ত্রীরা। যন্ত্রীসহ পছন্দের বাদ্যটি ভাড়া হয় এ হাটে। পূজা শুরুর আগে দরদাম ঠিক করে বায়নার টাকা দিয়ে বাদ্যযন্ত্রসহ যন্ত্রীদের সঙ্গে করে নিয়ে যান পূজার আয়োজকরা।

Dhol

দোকানিরা জানালেন, এ হাটে বিক্রি ভালো হচ্ছে। আর হাতের নাগালে পছন্দের বাদ্যসহ যন্ত্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারাও। একেকজন ঢাকী ১০ থেকে ১২ হাজার ও বাঁশিবাদক ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছেন। আর ছোট ব্যান্ডদল ১৫ থেকে ২০ এবং ৭/৮ জনের বড় দল ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছেন।

বাদ্যের তালে তালে মণ্ডপে মণ্ডপে নাচ-গান-আরতি আর দেবী বন্দনা দুর্গাপূজার প্রধান অনুসঙ্গ। তাইতো ঢাক-ঢোলের এ হাটেও জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমন। বাহারি রং আর আকারের ঢাক-ঢোল, বাঁশি, খাঁসি, খোলসহ অসংখ্য বাদ্যযন্ত্রের পসরা সাজিয়েছে এ দোকানিরা। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যন্ত্রীরা এসেছেন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও হবিগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে।

Dhol

বাঙ্গালির উৎসব পার্বনে বাদ্যযন্ত্রের জুড়ি নেই। আর ঢাক-ঢোল ছাড়া দুর্গোৎসব ভাবাই যায়না। প্রায় ৫শ বছরের পুরনো দেশের একমাত্র বাদ্যযন্ত্রের এ হাট শনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিচ্ছে বাড়তি আনন্দ। দিনে দিনে দুর্গোৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এ হাট।

জনশ্রুতি আছে, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে রাজা নবরঙ্গ রায় কটিয়াদীর চারিপাড়ায় তার রাজ প্রাসাদে প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। রাজবাড়ির পূজায় ঢাক, ঢোল, বাঁশিসহ অংশ নিতে খবর পাঠানো হয় বিক্রমপুর পরগনার যন্ত্রীদের কাছে। সেসময় বিক্রমপুর থেকে আসা যন্ত্রীরা পূজার দুইদিন আগে কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাট নামক স্থানে এসে জমায়েত হতেন। সেই থেকে প্রতিবছর এখানে বসে বাদ্য ও বাদকের হাট। পরে এ হাট স্থানান্তর করা হয় কটিয়াদীর পুরাতন বাজারের মাছ মহাল এলাকায়।

কটিয়াদী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা জানান, ঢাকের হাটকে ঘিরে কটিয়াদী বাজার এলাকায় শত শত মানুষের সমাগম ঘটে। হাটের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারের সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

Dhol

তিনি জানান, আগামী বছর হাটের জন্য একটি শেড তৈরি করা হবে। এ জন্য স্থানীয় এমপি অ্যাড. সোহরাব উদ্দিন ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের ঢাক-ঢোলের হাটটিই দেশের একমাত্র এবং সবচেয়ে বড় বাদ্যযন্ত্রের হাট। দুর্গাপূজা শুরুর আগের তিন দিন এ হাট বসে। বুধবার বিকেলে হাট শুরু হয়। আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে ঢাকের হাট।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।