৬ শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে আসলেন চেয়ারম্যান!


প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যুবরাজের বেশেই বগুড়ায় আসলেন আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি।

ঢাকা থেকে শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে বগুড়া সীমানা শেরপুরের চান্দাইকোনায় পৌঁছালে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের নেতাকর্মীর আরো অর্ধশতাধিক গাড়ি ও পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর তাকে বরণ করে। এরপর বিশাল বহরটি বগুড়া শহরে প্রবেশ করে। শনিবার বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে বগুড়া জেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

এদিকে দীর্ঘ ১৯ বছর পর যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। পাশাপাশি শঙ্কাও ছিলো অনেক। কারণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবং তাদের নেতাকর্মীদের শোডাউনে শহরের লোকজন ছিল আতঙ্কিত।

সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ১২টি উপজেলা থেকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসেন। সম্মেলনস্থল জিলা স্কুল মাঠে প্রবেশের আগে শহরে ব্যাপক শোডাউন করেন তারা।

ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয় জিলা স্কুলের আশপাশ। হাজার হাজার নেতাকর্মীর আগমনের ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। শহরের সাতমাথায় পুলিশ রায়ট কার ও জলকামান সকাল থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সম্মেলন মঞ্চের পাশে জেলা পুলিশের বিশেষ সোয়াত টিম মোতায়েন করা হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি বলেন, জিয়াউর রহমানের নির্বাচন ছিল হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে। এরশাদ মিডিয়া ক্যুর মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। বেগম জিয়ার নির্বাচন ছিল সোয়া কোটি ভুয়া ভোটার দিয়ে। ওইসব নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার ছিল না।

কিন্তু শেখ হাসিনা এদেশে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছেন। শেখ হাসিনার নির্বাচন আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব।

একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, শুধু ভোটের অধিকার নয়, ভাতের অধিকারও নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা। জিয়া, এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া সকলের আমলেই দেশে মঙ্গা ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা তার আমলে মঙ্গা দূর করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন।

যুবলীগ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ভোট ভাতের অধিকারের পাশাপাশি মানুষের কথা বলার মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা।

দেশের মিডিয়াগুলোতে অনুষ্ঠিত টকশোর উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এসব টকশোতে সরকারের এবং শেখ হাসিনার অনেক সমালোচনা করা হয়। এসব সমালোচনার মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা আরো সমৃদ্ধ হন।

অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ৫ বছরের পরিকল্পনা করেন। আর শেখ হাসিনা সেই রাষ্ট্রপ্রধান যিনি এদেশের জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত মহাপরিকল্পনা করেন। তিনি এই দেশকে এখন আশার সম্ভাবনার দেশে পরিণত করেছেন।  

এর আগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক চৌধুরী।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ বলেন, যুবলীগ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড, আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে যুবলীগকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মোহনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার তার রিপোর্ট পেশ করেন।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজনু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পরে বিকেল সাড়ে চারটায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে কাউন্সিল অধিবেশ শুরু করা হয়।

লিমন বাসার/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।