রুবি দাসীকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার ভুয়া
সাতক্ষীরার রুবি দাসী কথিত রুপো দাসীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জুড়ে অপপ্রচার চলছে। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড মথুরাপুর গ্রামের জেলেপল্লীর মৃত রতন মন্ডলের স্ত্রীর আসল নাম রুবি দাসী। থাকেন সেখানেই। অথচ তাকে নিয়ে কতিপয় অনলাইন ভুয়া অপপ্রচারে নেমেছে।
পুকুরের পাশে এক কাপড় পরে কাপড়ের অন্যপ্রান্ত রোদে শুকানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এমন- ছবি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় চলছে।
এই ছবিকে ব্যবহার করে কল্পকাহিনি বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন অনলাইনে। সেই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দুই বছর এক কাপড়ে রুপো দাসী, দেখার কেউ নেই’। অন্য অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, ‘মানবতাও লজ্জায় মুখ লুকায় রুপো দাসীকে দেখে’। এভাবে ফলাও করে শিরোনাম দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, যেকোন একদিন পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে রুবি দাসী এমনভাবে কাপড় শুকাচ্ছেন এটা সঠিক। তবে কাপড়ের অভাবে রুবি দাসী এমনভাবে দাঁড়িয়ে কাপড় শুকাচ্ছেন বিষয়টি সঠিক নয়।
তাছাড়া এই ছবিটি যিনি তুলেছেন তিনি রুবি দাসী ও তার ছেলের সঙ্গে কোন কথা বলেননি। মনগড়া একটি সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম আরো বলেন, বিষয়টি দৃষ্টিতে আসার পর গত ৬ অক্টোবর সকালে আমিসহ মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আকবর কবির, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুমনসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলে পল্লীতে রুবি দাসীর বাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শন করি।
প্রকাশিত সেই সংবাদে বলা হয়েছে তাদের থাকার জায়গা নেই। অথচ তার ঘরবাড়ি রয়েছে। ঘরে রয়েছে কাঠের বেড়া, টিনের চাউনি ও সৌরবিদ্যুৎ সংযুক্ত।
প্রকাশিত ওই সংবাদ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি জাগো নিউজকে আরো বলেন, রুবি দাসী ইউনিয়নের ফেয়ার প্রাইজের কার্ডধারী। কার্ড নং- ১৯০৭। ২০০৮ সাল থেকে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন তিনি। যার কার্ড নং- ৩০২২।

এছাড়া উত্তরণ এনজিও থেকে তার ছেলে গোপাল মন্ডলকে ১৩ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে নৌকা কেনে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহের জন্য। তাছাড়া রুবি দাসী সুশিলন এনজিও কর্তৃক স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী।
ইউএনও আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম আরো বলেন, ওই জেলে পল্লীতে বসবাসরত ৬১টি পরিবারকে স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসনের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠা করতে সহকারী কমিশনার ভূমিকে খাস জমি চিহ্নিত করে প্রস্তাব দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
শ্যামনগরের স্থানীয় সাংবাদিক আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যেকোন সংবাদ প্রকাশে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা উচিত। মনগড়া কোন সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। রুবি দাসীকে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।
আকরামুল ইসলাম/এএম